খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইসলামী ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট চালুর জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং অল্পমেয়াদী তহবিলের ঘাটতি মোকাবেলায় কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রচলিত কল মানি মার্কেটে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে তারা স্বল্পমেয়াদি তহবিলের অভাবে আর্থিক চাপের মুখোমুখি হয়। শরিয়াহ সম্মত তহবিল বিনিময়ের অভাব ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। নতুন ইন্টারব্যাংক মার্কেট এই সমস্যা দূর করতে সহায়ক হবে।
নতুন বাজারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি তহবিল লেনদেন করতে পারবে। অতিরিক্ত তহবিল থাকা ব্যাংকগুলো ঘাটতির মুখোমুখি ব্যাংককে সরাসরি সহায়তা করতে পারবে। এতে লিকুইডিটি আরও স্থিতিশীল হবে এবং আর্থিক ব্যবস্থার সুষমতা বজায় থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারব্যাংক মার্কেটের কাঠামো প্রণয়নের জন্য ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের সফল ইসলামী ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেটের মডেল বিশ্লেষণ করেছে।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “নতুন বাজার চালু হলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সমন্বয় সহজ হবে এবং লিকুইডিটি আরও স্থিতিশীল হবে। এটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।”
যদিও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগটি স্বাগত জানিয়েছেন, তারা মনে করছেন এটি কেবল অল্পমেয়াদী সমাধান। একজন প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “ইন্টারব্যাংক ব্যবস্থা অল্পমেয়াদী তহবিল ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সমস্যার সমাধান নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় নজরদারি অপরিহার্য।”
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিং খাত দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করছে। নতুন বাজার চালু হলে খাতটির আধুনিকায়ন, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিচের টেবিলটি বর্তমান ইসলামী ব্যাংকিং খাতের প্রধান তথ্য তুলে ধরছে:
| সূচক | পরিমাণ (২০২৫ সালের শেষ) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদ | ৩,৫০,০০০ কোটি টাকা | দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় ২০% |
| পূর্ণ ইসলামী ব্যাংক সংখ্যা | ৮টি | শাখা সংখ্যা ১২০০+ |
| লিকুইডিটি ঘাটতি/অতিরিক্ত | পরিবর্তনশীল | ইন্টারব্যাংক মার্কেট স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে |
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বাজার চালু হলে ব্যাংকগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে তহবিল বিনিময় করতে পারবে, যা দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকেও সহায়তা করবে।