খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মরক্কোর ষষ্ঠ রাজা মোহাম্মদ,গবাদি পশুর তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে নাগরিকদের প্রতি এ বছর ঈদুল আজহার পশু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি তথ্য সূত্রে অনুসারে, উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি টানা সাত বছর ধরে খরার সম্মুখীন হওয়ার ফলে গত এক দশকে দেশটির ভেড়ার সংখ্যায় ৩৮% হ্রাস ঘটেছে। । ফলে মাংসের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে মরক্কো সরকার অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ লাখ ভেড়া আমদানি করেছে।
জলবায়ু সংকটে ঐতিহ্যগত উৎসবের প্রভাব :
২০২৫ সালের জুন মাসে পালিত হতে যাওয়া ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি বৃহত্তম উৎসব। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ঈদুল আজহা পালিত হয়। সাধারণত মুসলিমরা এই দিনে ভেড়া, ছাগল বা অন্যান্য গবাদি পশু কোরবানি করে এবং এর গোশত পরিবার, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করেন।
কিন্তু মরক্কোর ক্রমবর্ধমান খরার কারণে পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ধর্মমন্ত্রী জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে রাজার বক্তব্য পড়ে শোনান, যেখানে রাজা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে কোরবানির ঐতিহ্য চালিয়ে যাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে পড়বে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও সরকারি পদক্ষেপ :
ষষ্ঠ রাজা মোহাম্মদ-এর এই আহ্বান মরক্কোর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। এর পূর্বে ১৯৬৬ সালে একই ধরনের খরার সময়ে তার পিতা, রাজা হাসান দ্বিতীয়ও মরক্কোর জনগণকে ঈদুল আজহার কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃষিমন্ত্রী আহমেদ বোয়ারি জানিয়েছেন যে, দেশের পানির সরবরাহ সুরক্ষিত রাখা বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা কৃষির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কঠোর পানি সংরক্ষণ নীতি ও সেচ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ফলে গবাদি পশুর খামারগুলো ব্যাপক চাপে পড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ও সংকট মোকাবিলায় মরক্কোর সরকার গবাদি পশু, উট ও লাল মাংসের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার করেছে, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো সহজলভ্য হয়।
আঞ্চলিক সংকটের প্রতিফলন :
মরক্কোর এই সমস্যা উত্তর আফ্রিকার বৃহত্তর জলবায়ুজনিত কৃষি সংকটেরই অংশ। এই অঞ্চলের অনেক দেশই পানির ঘাটতি, ফসলের উৎপাদন হ্রাস ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত নতুন বাস্তবতাকে সামনে রেখে অনেক সরকার ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও উৎসব উদযাপনের রীতি পুনর্বিবেচনা করছে।
যতই ঈদের দিন ঘনিয়ে আসছে, মরক্কোর জনগণকে ধর্মীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশেষ দিন উদযাপনের নতুন উপায় খুঁজতে হবে, যা একদিকে তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করবে এবং অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলতে সহায়তা করবে।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/এমবি