খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে ধর্মীয় উৎসবটি উদযাপিত হবে। এই দিনে রাজধানীসহ একাধিক বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি, আবার কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, ঈদের দিনে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাতের সময় তুলনামূলকভাবে আবহাওয়া স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ঈদের দিনে বিশেষ করে ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা অন্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকা এবং বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে ঈদের দিন সকালে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে এই দুই বিভাগেও দিনের যেকোনো সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়ে হঠাৎ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকালের দিকে দেশের কিছু এলাকায় আংশিক মেঘলা বা শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। তবে দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিকভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টির ঘটনাও ঘটতে পারে।
ঈদের দিন মুসল্লিদের ঈদের নামাজ আদায় এবং পরবর্তী সময়ে কোরবানির পশু জবাইয়ের কার্যক্রমের সময় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি, সেখানে খোলা জায়গায় আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পূর্বাভাসে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ঈদের দিন সারাদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তনশীল আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাতায়াত ও খোলা স্থানে অবস্থানের ক্ষেত্রে।