খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ছিল ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে মুখরিত। সকাল থেকে স্টেশনজুড়ে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী ট্রেনগুলো সর্বোচ্চ চাপের মুখোমুখি হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী সংখ্যা ছিল ট্রেনের ধারণক্ষমতার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সকালবেলা ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে আসনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী উপস্থিত ছিল। অনেক যাত্রীকে দরজার সামনে, সংযোগস্থল এবং ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকে টিকিট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করেছেন। চট্টগ্রামগামী যাত্রী মো. বশির বলেন,
“অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারার কষ্ট সহ্য করতে পারিনি, তাই ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনে উঠেছি। ভিড় অনেক বেশি, দাঁড়িয়ে যেতেই হচ্ছে।”
মহসিনা খাতুন আরও জানান,
“শিশু নিয়ে ভ্রমণ খুবই কষ্টকর হয়ে গেছে। তারপরও বাড়ি যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এই ভিড়ের মধ্যেই উঠতে হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে।”
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন,
“ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। ট্রেনগুলো সময়মতো পরিচালনার পাশাপাশি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হলেও অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা রেলওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। অনুরোধ, যাত্রীরা বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করুন এবং অযথা ঝুঁকি না নিন।”
| ট্রেনের নাম | গন্তব্য | আসনসংখ্যা | যাত্রী উপস্থিতি (প্রায়) | বিশেষ লক্ষ্যণীয় পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর এক্সপ্রেস | চট্টগ্রাম | 800 | ~1,500 | দরজা ও সংযোগস্থলে ভিড়, কিছু যাত্রী ছাদে |
| সিলেট এক্সপ্রেস | সিলেট | 600 | ~1,000 | দাঁড়িয়ে যাত্রীরা বেশি, শিশুদের ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ |
| ডানকুনী এক্সপ্রেস | চট্টগ্রাম | 700 | ~1,200 | অতিরিক্ত কোচ সংযোজন হলেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ কঠিন |
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফেরা মানুষের এই চাপ আরও দু-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন যে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
যাত্রীদের নিরাপত্তা, ট্রেনের সঠিক চলাচল এবং সময়মতো বাড়ি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে কমলাপুর রেলস্টেশন ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত কোচ ও পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চাপ সাময়িক হলেও প্রতিটি যাত্রীর জন্য সতর্কতা ও ধৈর্য অপরিহার্য।