মাছুম বিল্লাহ
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
ঈদের নামাজ মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি হল মুসলিমদের আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক। ঈদে নামাজ পড়া একান্ত কর্তব্য, যার মাধ্যমে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাঁর আশীর্বাদ কামনা করেন এবং একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
নামাজের মাধ্যমে মুসলিমরা সমাজে একতার অনুভূতি সৃষ্টি করেন, দরিদ্রদের সাহায্য করতে উদ্বুদ্ধ হন এবং আত্মবিশ্বাস ও পরিতৃপ্তি লাভ করেন।
ঈদের দিন ঘর থেকে মসজিদ বা ঈদের মাঠে যাওয়ার আগে তাকবীর পাঠ করা জরুরি। “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাল্লাহিল হামদ”
প্রথম রাকাত
১. তাকবিরে তাহরিমা। ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধা।
২. সানা পড়া
৩. অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে ‘তিন তাসবিহ’ পরিমাণ সময় বিরত থাকা।
প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেওয়া।
৪. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া
৫. সুরা ফাতিহা পড়া
৬. সুরা মেলানো। অতঃপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।
দ্বিতীয় রাকাত
১. বিসমিল্লাহ পড়া
২. সুরা ফাতিহা পড়া
৩. সুরা মেলানো।
৪. সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধা।
৫. তারপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
৬. সিজদা আদায় করে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
তারপর খুতবা। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম দুটি খুতবা দেবেন আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন।
নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০)
কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায়, তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত ইশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৬১)