পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকা থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে পাড়ি জমান। প্রতি বছর ঈদে যাত্রীদের চাপে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ট্রেনযাত্রা করতে পারেন। এবছরও সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ মার্চ থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবে। এই টিকিট বিক্রির কার্যক্রম ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবং এটি সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হবে, যা যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক এবং নিরাপদ হবে।
এবারের ঈদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রির সময়সূচি। এছাড়া, প্রতিটি যাত্রীকে একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনার সুযোগ দেওয়া হবে এবং টিকিট কেনার জন্য শুধুমাত্র একটি এনআইডি ব্যবহার করা যাবে। তবে, একবার কেনা টিকিট ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকছে না, যা রেলওয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
এবারের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি নিচে দেওয়া হল:
| তারিখ | টিকিটের তারিখ |
|---|---|
| ৩ মার্চ | ১৩ মার্চ |
| ৪ মার্চ | ১৪ মার্চ |
| ৫ মার্চ | ১৫ মার্চ |
| ৬ মার্চ | ১৬ মার্চ |
| ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ |
| ৮ মার্চ | ১৮ মার্চ |
| ৯ মার্চ | ১৯ মার্চ |
| ১০ মার্চ | ২০ মার্চ |
| ১১ মার্চ | ২১ মার্চ |
| ১২ মার্চ | ২২ মার্চ |
টিকিট বিক্রির সময়সীমা অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে পাওয়া যাবে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। তবে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিটের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য আরও একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যারা অনলাইনে টিকিট পাবে না, তারা স্টেশন থেকে ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট’ বা স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। নন-এসি কোচে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যা যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রদান করা হবে।
এছাড়া, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ভোগান্তি কমানোর জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের অনলাইন সিস্টেমের কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়াই টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলতে থাকে। টিকিট বিক্রির পরিমাণ এবং প্রস্তুতির সাথে সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহ করে, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য রেলওয়ে সচেষ্ট থাকবে।
এই বিশেষ প্রস্তুতির ফলে, ঈদে ট্রেনে যাত্রা করা যাত্রীদের জন্য একটি নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।