পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের আনন্দময় উপলক্ষে দেশের দুটি প্রধান শেয়ারবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সরকারি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার ফলে, ইতিমধ্যেই নির্ধারিত ছুটির সাথে মিলিয়ে উভয় শেয়ারবাজারে কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকবে। এর ফলে এই সময়ে কোনো লেনদেন, দাপ্তরিক কার্যক্রম বা করণীয় সম্পন্ন করা যাবে না।
শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, পবিত্র রমজান মাস ও ঈদের ছুটি শেষে অফিসের সময়সূচি আগের নিয়মে ফিরে আসবে। স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী:
| বাজার | অফিস সময় | লেনদেন সময় | পোস্ট-কলোজিং সেশন |
|---|---|---|---|
| ডিএসই | সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা | সকাল ১০টা – দুপুর ২টা ২০ মিনিট | দুপুর ২টা ২০ মিনিট – ২টা ৩০ মিনিট |
| সিএসই | সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা | সকাল ১০টা – দুপুর ২টা ২০ মিনিট | দুপুর ২টা ২০ মিনিট – ২টা ৩০ মিনিট |
ঈদ পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ ২৪ মার্চ থেকে উভয় শেয়ারবাজারে নিয়মিত লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাজার বন্ধ থাকার কারণে কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না। শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের পূর্বপরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে যাতে লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সময়মতো নেওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকালীন দীর্ঘ ছুটি সাধারণত বাজারে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি করে। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পর লেনদেনের পুনরায় সূচনার সঙ্গে সঙ্গে বাজার সচল হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের উচিত ঈদকালীন সময়ে অতিরিক্ত লেনদেন বা নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা।
এবারের ছুটি এমন একটি সময়ে আসছে যখন দেশের অর্থনীতিতে ঈদকালীন বাজারচলাচল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ঈদব্যবসা ও মৌসুমি খরচ বৃদ্ধির কারণে ঋণ ও শেয়ার বিনিয়োগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
এই দীর্ঘকালীন বন্ধের ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন, যাতে ঈদ পরবর্তী সময়ে বাজারের সুবিধা গ্রহণ করা সহজ হয়।