খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর এবার রাজধানীর স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে সরব হওয়ার ঘোষণা দিলেন তরুণ রাজনীতিক ইশরাক হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ।” তাঁর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন।
এবার জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নগর প্রশাসনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের নতুন দিক উন্মোচন করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট। প্রায় কয়েক কোটি মানুষের বসবাসের এ নগর অংশে নাগরিক সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিকল্পনা—সবই বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
নিচে ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক যাত্রাপথের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | ইশরাক হোসেন |
| প্রথম সংসদ নির্বাচন | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন |
| নির্বাচনী আসন | ঢাকা-৬ |
| নির্বাচনের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি |
| বর্তমান দায়িত্ব | মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী |
| নতুন ঘোষণা | ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে। রাজধানীর নাগরিক সমস্যাগুলো—বিশেষত জলাবদ্ধতা, যানজট ও পরিবেশ দূষণ—নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি তিনি সামনে আনতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইশরাক হোসেনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ অংশে সম্ভাব্য এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত মিলছে। জাতীয় রাজনীতি থেকে স্থানীয় প্রশাসনে সক্রিয় অংশগ্রহণের এই উদ্যোগ তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।