খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা দেড় লাখ পিস, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারকারীদের তৎপরতা রোধে চলমান কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর আওতাধীন হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল। টহলরত দলটি সীমান্ত পিলার বিআরএম-১২-এর দক্ষিণ-পূর্ব পাশে অবস্থিত আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় বিজিবি সদস্যদের চোখে পড়ে, মিয়ানমার দিক থেকে এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
বিজিবি সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী তাকে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানালে ওই ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যেই পালানোর চেষ্টা করে। সে তার হাতে থাকা একটি কালো রঙের পলিব্যাগ মাটিতে ফেলে দিয়ে দ্রুত নাফ নদীর দিকে ছুটে যায় এবং সাঁতরে মিয়ানমারের ভেতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। রাতের অন্ধকার, নদীপথ এবং সীমান্ত এলাকার জটিল ভূপ্রকৃতির কারণে বিজিবির পক্ষে তাকে ধাওয়া করে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা পলিব্যাগটি উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে ব্যাগের ভেতর থেকে নীল রঙের বায়ুরোধী মোট ১৫টি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রতিটি প্যাকেট খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট। সব মিলিয়ে উদ্ধার হয় ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, যা সীমান্ত দিয়ে পাচারের জন্য আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মাদক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় মামলা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পাচার কার্যক্রম রোধে সীমান্ত টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে ইয়াবা এনে বাংলাদেশ হয়ে বিভিন্ন স্থানে পাচারের চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ চক্রগুলো। বিজিবি নিয়মিত অভিযান, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এসব অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।