খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তর কোরিয়ার একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি চীনের সীমান্তের কাছে অবস্থিত, যা পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি তৈরি করতে পারে।
বুধবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানিয়েছে, সিনপুং-ডং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিটি চীনের সীমান্ত থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘাঁটিতে নয়টি পারমাণবিক-সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) এবং তাদের মোবাইল লঞ্চার মজুত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘাঁটিটি আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ওয়ারহেড স্টোরেজ সুবিধার মধ্যে একটি, যা পূর্বে উত্তর কোরিয়া কখনো ঘোষণা করেনি।
প্রতিবেদনের তথ্য স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ, উত্তর কোরিয়ার শরণার্থী ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার, গোপন নথি এবং ওপেন-সোর্স ডেটা থেকে নেওয়া হয়েছে।
ঘাঁটির অবস্থানকে ঘিরে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব এশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি তৈরি করতে পারে।’
উত্তর কোরিয়া কয়েক বছরে নেতা কিম জং উন এর নেতৃত্বে তার অস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করেছে। দেশটি দ্রুত সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করেছে, নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে এবং এমন আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।
এদিকে, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন, যা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ও সামগ্রী অর্জনকে কঠোরভাবে সীমিত করে। তবে, রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর মাধ্যমে মস্কোর কাছে প্রযুক্তি ও সরবরাহ লাইন শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঘাঁটিটি একটি সরাসরি পাহাড়ি উপত্যকায় অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ৫,৪৩৬ একর), যা নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়ে বড়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান ঘাঁটিকে ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলো এটি লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পারে, কারণ কোনো পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী চীনের জন্যও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির নির্মাণ কাজ ২০০৪ সালে শুরু হয় এবং এটি ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর। সেবছর থেকে ঘাঁটিটি সক্রিয়ভাবে সুরক্ষিত এবং বিকশিত হচ্ছে। তবে ঘাঁটিতে কোন মডেলের আইসিবিএম রাখা আছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সিএসআইএস গবেষকরা মনে করেন, এটি হাওয়াসং-১৫, হাওয়াসং-১৮ অথবা অন্য কোনো পারমাণবিক সক্ষম আইসিবিএম দিয়ে সজ্জিত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এই গোপন ঘাঁটিটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করার প্রচেষ্টার একটি অংশ, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
খবরওয়ালা/শরিফ