খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়া পুনরায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল, ২০২৬) ভোরে পরিচালিত এই উৎক্ষেপণটি পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কইজুমি এক বিবৃতিতে জানান যে, উত্তর কোরিয়া থেকে স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৬টার দিকে (জিএমটি রাত ৯টা) একাধিক সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের (পূর্ব সাগর) অভিমুখে যাত্রা করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)-এর বাইরে গিয়ে সমুদ্রে পতিত হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পরপরই জাপান সরকার তাদের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ বা বিমানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আধুনিকায়নে ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (SRBM) এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষার মাধ্যমে তারা তাদের সক্ষমতা জাহির করছে। নিচে সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| উৎক্ষেপণের তারিখ | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ |
| সময় (জাপানি সময়) | সকাল আনুমানিক ০৬:০০ টা |
| ক্ষেপণাস্ত্রের ধরণ | একাধিক সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র |
| পতিত হওয়ার স্থান | জাপান সাগরের বহিঃস্থ অঞ্চল (EEZ-এর বাইরে) |
| নিশ্চিতকারী সংস্থা | জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংবাদ সংস্থা তাস |
| প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি | কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি |
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশনের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (JCS) এই উস্কানিমূলক তৎপরতার কঠোর পর্যবেক্ষণ করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই ধারাবাহিক পরীক্ষাগুলো কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ এবং পশ্চিমা জোটের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কইজুমি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন যে, পিয়ংইয়ংয়ের এই কার্যকলাপ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সমগ্র অঞ্চলের শান্তির জন্য হুমকি। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কৌশলে ‘কঠিন জ্বালানি’ চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি এবং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির উপর গুরুত্বারোপ করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা উত্তর কোরিয়া তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দাবি করে আসছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় টোকিও, সিউল এবং ওয়াশিংটন ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।