খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এটি রূপান্তরে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হবে। এ জাদুঘরে থাকবে গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মারক, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নিপীড়নের দলিল-চিত্র ও অডিও-ভিজ্যুয়াল সংরক্ষণ।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন’ দেখিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এজন্য পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ৬৮ ও পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রথম প্রকল্পের আওতায় থাকবে জাদুঘরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজ। এই অংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ‘মেসার্স শুভ্রা ট্রেডার্স’। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় প্রকল্পটি জাদুঘরের সিভিল ও কাঠামোগত নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই অংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’কে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
কমিটির কর্মকর্তারা জানান, দুটি প্রকল্পই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে যাতে আগামী ৫ আগস্ট ২০২৫-এ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের আত্মত্যাগ নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতেই এই জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন