খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২০ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে পদত্যাগ দাবি করায় জয়পুরহাটের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মাহবুবর রহমান ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
তিনি ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের’ সমন্বয়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে গত ৮ এপ্রিল মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। একই দিন তাকে শোকজ নোটিশও পাঠানো হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাহবুবর রহমান উপদেষ্টাকে নিয়ে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে।’
শোকজে বলা হয়েছে, মাহবুবর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে গিয়ে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যেখানে আরও অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনাকে ‘সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দেশিকার পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শিক্ষক মাহবুবর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি কেবল সহকারী শিক্ষকদের পক্ষে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সরকারি কমিটি যখন সহকারী শিক্ষকদের বেতন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছিল, তখন উপদেষ্টার বক্তব্য সেই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আমি বলেছি, উনি তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং পদত্যাগ করা উচিত।’
তিনি জানান, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি নিজেই প্রাথমিক শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে একটি প্রস্তাবনা জমা দেন, যেখানে সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে সহকারী শিক্ষক পদ বিলুপ্ত করে এন্ট্রি লেভেল শিক্ষক পদ চালু করে ১২তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম ও প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পান। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উচ্চতর গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে বিভাগীয় মামলার ব্যাপারে মাহবুবর রহমানকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। চাইলে তিনি ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগও পাবেন।
খবরওয়ালা/আরডি