খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগটি ছিল আর্সেনালের শক্তিমত্তা, আগ্রাসন এবং নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্যের এক নিঁখুত প্রদর্শনী। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল মিকেল আরতেতার শিষ্যরা। চেলসির বদলি খেলোয়াড় আলেহান্দ্রো গারনাচোর শেষ মুহূর্তের চমকপ্রদ জোড়া গোল না থাকলে ব্যবধানটা চেলসির জন্য আরও লজ্জাজনক হতে পারত। এই জয়ের ফলে আরতেতার অধীনে আরও একটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন গানার্স সমর্থকদের হাতের মুঠোয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল তাদের শারীরিক ফুটবল এবং হাই-প্রেসিং গেম দিয়ে চেলসিকে কোণঠাসা করে ফেলে। চেলসির নতুন ম্যানেজার লিয়াম রোসেনিওরের জন্য ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচটি ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। আর্সেনাল তাদের শক্তির জায়গা অর্থাৎ সেট-পিস থেকেই প্রথম গোলটি আদায় করে নেয়। ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে বেন হোয়াইট গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এটি ছিল এই মৌসুমে সেট-পিস থেকে আর্সেনালের ২৪তম গোল। দ্বিতীয় গোলটিতে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের দায় ছিল স্পষ্ট। ভিক্টর ডিয়াকেরেসের শট রুখতে গিয়ে সানচেজ যে শিশুতোষ ভুল করেছেন, তা চেলসি সমর্থকদের হতাশ করেছে।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান ও স্কোরকার্ড নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ফলাফল | চেলসি ২ – ৩ আর্সেনাল |
| গোলদাতা (আর্সেনাল) | বেন হোয়াইট, ভিক্টর ডিয়াকেরেস, মার্টিন জুবিমেন্ডি |
| গোলদাতা (চেলসি) | আলেহান্দ্রো গারনাচো (২টি) |
| সেট-পিস গোল | ১টি (আর্সেনাল) |
| ভেন্যু | স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, লন্ডন |
| প্রতিযোগিতা | কারাবাও কাপ সেমিফাইনাল (প্রথম লেগ) |
চেলসি যখন দিশেহারা, তখন বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন গারনাচো। তার প্রথম গোলটি চেলসি শিবিরে স্বস্তি ফেরালেও আর্সেনাল দ্রুতই পাল্টা আক্রমণ চালায়। মার্টিন জুবিমেন্ডি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সানচেজকে পরাস্ত করে আর্সেনালের লিড ৩-১ এ নিয়ে যান। তবে ম্যাচের একদম শেষ দিকে গারনাচোর দ্বিতীয় গোলটি চেলসিকে দ্বিতীয় লেগের জন্য ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। আর্সেনাল রক্ষণের ছোট একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে গারনাচো বল জালে জড়ান, যা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দর্শকদের কিছুটা স্বস্তি দেয়।
মাঠের খেলার চেয়েও গ্যালারিতে চেলসি সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল চোখে পড়ার মতো। মালিকপক্ষের দল পরিচালনা এবং তরুণ খেলোয়াড় নির্ভর ‘ট্রেডিং মডেলের’ ওপর ভক্তরা আস্থা হারিয়েছেন। ম্যাচের দীর্ঘ সময় ধরে মালিক বেহদাদ এগবালি বিরোধী স্লোগান শোনা যায়। সমর্থকরা সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের পক্ষে স্লোগান দিয়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা রোসেনিওরের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেমিফাইনালে হারার পুরনো তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরতেতা এবার কোনো ঝুঁকি নেননি। তিনি তার সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। শারীরিক লড়াইয়ে আর্সেনালের খেলোয়াড়রা এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে চেলসির তরুণ দলটিকে মাঝে মাঝে অসহায় মনে হয়েছে। তবে গারনাচোর জোড়া গোল আর্সেনালকে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে। আগামী ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে চেলসিকে রুখে দিতে পারলেই ওয়েম্বলির ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে গানার্সদের।