খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আয়োজিত একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবে প্রকৃতির এক ভয়াবহ তাণ্ডব নেমে এসেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে মাথিবেসতাদ গ্রামের কাছে অনুষ্ঠান চলাকালীন আকস্মিক বজ্রপাতে অন্তত দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৫০ জন উৎসবকামী মানুষ। আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ এমন বিপর্যয় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া সৃষ্টি করেছে।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে যখন উৎসবটি পূর্ণ গতিতে চলছিল, তখনই আকাশ ভেঙে বজ্রপাত শুরু হয়। খোলা প্রান্তরে উপস্থিত কয়েক শ মানুষের ওপর সরাসরি বজ্রপাত আঘাত করলে এই ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রবিবার (৪ জানুয়ারি) এক শোকবার্তায় জানায়, আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের বড় একটি অংশ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেলেও বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। এই মৌসুমে সেখানে তীব্র ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। তবে একটি জনাকীর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন প্রাণঘাতী বজ্রপাতের ঘটনা বিরল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎসবে আসা মানুষজন যখন খোলা আকাশের নিচে ঐতিহ্যবাহী নাচে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই এই বিপর্যয় আঘাত হানে।
নিচে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং বর্তমান চিকিৎসাধীন রোগীদের অবস্থা সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | ঘটনার বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার সময় | ৩ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার রাত। |
| ঘটনাস্থল | মাথিবেসতাদ গ্রাম (প্রিটোরিয়ার উত্তর), দক্ষিণ আফ্রিকা। |
| নিহতের সংখ্যা | ০২ জন (ঘটনাস্থলেই মৃত্যু)। |
| মোট আহতের সংখ্যা | প্রায় ১৫০ জন। |
| আশঙ্কাজনক অবস্থা | ১৩ জন (বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন)। |
| বর্তমান মৌসুম | গ্রীষ্মকাল (দক্ষিণ আফ্রিকায় বজ্রপাতের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়)। |
| উদ্ধার অভিযান | স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ প্রয়াস। |
স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ১৩ জনকে বিশেষায়িত বার্ন ও ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ বজ্রপাতের তীব্র বিদ্যুৎপ্রবাহে ঝলসে গেছে এবং অনেকের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন এই উৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া দপ্তর আগে থেকেই বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে উৎসবের উদ্যোক্তারা সেই সতর্কবার্তা যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শোকাতুর মাথিবেসতাদ গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে নীরবতা বিরাজ করছে। মৃতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা।