খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গত বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশের আটটি জেলায় বন্যার সময় একটি তিন-চার বছর বয়সী শিশুর প্রায় কাঁধ পর্যন্ত ডুবে থাকার একটি সাদা-কালো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ছবিটি অনেককে নাড়া দেয় এবং অনেকেই শিশুটির পরিচয় ও সন্ধান জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল, যা আসলে সত্য ছিল না।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে এর ব্যবহার ও অপব্যবহার দুটোই বাড়ছে। উন্নত দেশগুলো এই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, যেমন—পূর্ণাঙ্গ আইন, এক্সিকিউটিভ আদেশ, নীতিমালা, পলিসি বা স্ট্র্যাটেজি, এবং বিল। এর ফলে সেসব দেশে এআই ব্যবহার করে কোনো ছবি, ভিডিও বা কনটেন্ট তৈরির একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে এবং অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থাও বিদ্যমান।
দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা বা এর অপব্যবহার রোধে এখনো কোনো আইনি কাঠামো নেই। অর্থাৎ, এ বিষয়ে কোনো সমন্বিত গাইডলাইন, বিধিমালা, পলিসি, নীতিমালা বা স্ট্র্যাটেজি এখনো তৈরি হয়নি।
এ কারণে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আইনজীবীরা মনে করছেন যে, এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
তবে, আশার কথা হলো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন যে, সরকার এআই পলিসি তৈরিতে কাজ করছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের একটা টিম ন্যাশনাল এআই পলিসি করার জন্য কাজ করছে। আমরা এখন আরও বেশ কয়েকটি পলিসি নিয়ে কাজ করছি। এই পলিসিগুলো যদি শেষ হয়, তখন আমরা ন্যাশনাল এআই পলিসিটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। সেখানেই সংশ্লিষ্ট সবগুলো বিষয়কে আমরা অ্যাড্রেস করবো।”
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বিএম মইনুল হোসেন মনে করেন, জেনারেটিভ এআই আসার পর যেকোনো ব্যক্তির কণ্ঠ বা চেহারা নকল করা সম্ভব হচ্ছে, যা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তিনি গণমাধ্যমকে আরও বলেন, “এআই-এর বেশ কিছু কনসার্ন সারা বিশ্বেই যেটা নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা হচ্ছে এর এথিকেল ইউজ। এআই কিন্তু ব্যাপকভাবে মিস ইউজ করা যায়। আরেকটা হচ্ছে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য। মিস ইনফরমেশন, ডিস ইনফরমেশন এআই আসার পর যে পরিমাণ ছড়ানো যাচ্ছে, এটা আগে কখনো দেখি নাই।”
মি. হোসেন আরও মনে করেন যে, শুধু এআই পলিসি তৈরি করলেই হবে না। এর সঙ্গে সম্পর্কিত ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ইনোভেশন ইনডেক্স, ইউজার ডুয়িং বিজনেস-এর মতো বিষয়গুলো না থাকলে এআই পলিসির সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং এর অপব্যবহার রোধে একটি দৃঢ় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা জরুরি। বাংলাদেশ এই পথে কতটা দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
খবরওয়ালা/টিএস