খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫
পোশাকসহ দেশের ৯ হাজার ৬৮৩টি শিল্প-কারখানার মধ্যে এখনো বোনাস হয়নি এক হাজার ৯৯৯টিতে। অর্থাৎ দেশের ২০.৬৪ শতাংশ শিল্প-কারখানায় এখনো বোনাস হয়নি। যদিও ৯৬ শতাংশ শিল্প ইউনিট এপ্রিল মাসের বেতন দিয়েছে।
বুধবার (৪ জুন) বিকেলে শিল্প পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএর এক হাজার ৫৪৭টি কারখানার মধ্যে বোনাস হয়েছে এক হাজার ২৬৮টিতে। এখনো বোনাস হয়নি ২৯৭টিতে। অর্থাৎ বিজিএমইএর ১৮ শতাংশ কারখানায় এখনো বোনাস হয়নি।
বিকেএমইএর ৫৮০টি কারখানার মধ্যে বোনাস হয়েছে ৪৫০টিতে। বোনাস হয়নি ১৩০টিতে। অর্থাৎ বিকেএমইএর সাড়ে ২২ শতাংশ কারখানায় এখনো বোনাস হয়নি। বিটিএমএর ৩৩০টি কারখানার মধ্যে বোনাস হয়েছে ২৪৯টিতে, বোনাস হয়নি ৮১টিতে। বিটিএমএর ২৪ শতাংশ কারখানায় বোনাস হয়নি।
বেপজার ৪৩১টি কারখানার মধ্যে ৪২৪টিতে বোনাস হয়েছে, বোনাস হয়নি সাতটিতে। বোনাস না হওয়ার হার ১.৬২ শতাংশ।
৮৬টি পাটকলের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৬০টিতে, বোনাস হয়নি ২৬টিতে। পাটকলে বোনাস না হওয়ার হার ৩০ শতাংশ।
অন্যান্য শিল্প-কারখানার মধ্যে ছয় হাজার ৭০৯টি কারখানার মধ্যে পাঁচ হাজার ২৩৩টিতে বোনাস হয়েছে এবং বোনাস হয়নি এক হাজার ৪৭৬টিতে।
অর্থাৎ অন্যান্য শিল্প-কারখানার মধ্যে ২২ শতাংশ কারখানায় বোনাস হয়নি।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, চলমান উৎপাদনে ঘাটতি, ব্যাংকিং সহযোগিতার অভাব এবং শ্রমিক আন্দোলনের কারণে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন। অনেকে চাইলেও বেতন-বোনাস দিতে পারেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব যুক্তি অজুহাত। বছরব্যাপী ব্যবসা করে ঈদের মৌসুমে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দেওয়া অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ প্রেক্ষাপটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত ২১ মে শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৮ মের মধ্যে সব বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ না করলে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা—গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গ্রহণ করা হবে। ওই দিন জানানো হয়েছিল, পাঁচ মালিকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বাস্তব চিত্র বলছে, এসব হুঁশিয়ারি মাঠপর্যায়ে তেমন প্রভাব ফেলেনি। বোনাস ও বেতন বকেয়া রেখে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে ঈদের আগে এবং শ্রমিকেরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
খবরওয়ালা/এসআর