খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে নিষিদ্ধ উগ্রপন্থি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রবিবার (১৮ মে) ডিএনসিসির মুখপাত্র ও তথ্য কর্মকর্তা ফারজানা ববি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই অভিযোগগুলো এসেছে সেই সব মহল থেকে, যারা অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশ বিপর্যয় ও স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে জড়িত ছিল। মোহাম্মদ এজাজ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বরাবরই সক্রিয়ভাবে কথা বলেছেন।’
তিনি জানান, মোহাম্মদ এজাজ একজন পরিচিত পরিবেশকর্মী, লেখক এবং চিন্তাবিদ। বিগত ১৬ বছর ধরে তিনি নদী রক্ষা, জলাধার সংরক্ষণ এবং পানির ন্যায্য বণ্টনের জন্য কাজ করে আসছেন। তার এই কর্মসূচির ফলে কিছু প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, যারা এখন তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
ডিএনসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে মোহাম্মদ এজাজের মালিকানাধীন একটি ভবন থেকে সন্দেহভাজন হিযবুত তাহরীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংশ্লিষ্টতার অপপ্রচার চালানো হয়। যদিও তিনি ঐ ভবনে বসবাস করতেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র ছিল না। শুধুমাত্র ভবনটির মালিকানা সূত্রেই তার নাম উঠে আসে।
পরবর্তীতে আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোহাম্মদ এজাজ নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং আদালতের রায়ে সম্পূর্ণভাবে খালাস পান। ডিএনসিসি জানায়, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল মিথ্যা এবং পরিকল্পিত।
ফারজানা ববি আরও বলেন, ‘মোহাম্মদ এজাজ ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরোধী। তিনি এ বিষয়ে বহুবার প্রকাশ্যে মত দিয়েছেন, কলাম লিখেছেন এবং অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজ শুধু একজন প্রশাসক নন, বরং গণতন্ত্র, পরিবেশ ও মানবাধিকারের পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে এই কণ্ঠস্বর দমন করার যে চেষ্টা হচ্ছে, তা দেশের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধেই কাজ করছে।’
বিবৃতির শেষাংশে ডিএনসিসি সবাইকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলে, ‘যে কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রচার করা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
খবরওয়ালা/আরডি