খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিএনপি থেকে ৩ মাসের জন্য সাময়িক পদ স্থগিত হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দল। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে। ঢাকা প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। ফজলুর রহমান বলেন, “উনি কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন। কারণ তার সন্তানদের একটা দল আছে, যাদেরকে উনি সন্তান বলেন। আবার কোনো সময় বলেন ওই সন্তানরা তার নিয়োগকর্তা। কাজেই নিয়োগকর্তাদের দলকে উনি যখন কর্মচারী থাকেন উনি তো তাদেরকে সুবিধা দিতেই হবে। এই কারণে এনসিপি তার নিজের দল।”
জামায়াত কীভাবে দেশ চালাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সমস্ত ব্যাংক তারা দখল করে বসে আছে। সমস্ত অর্থনীতি ইসলামী ব্যাংকসহ তারা দখল করেছে। শেয়ার মার্কেট থেকে ধরে বসে আছে। তাদের আঙুলের ইশারায় এসপি-ডিসি থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত পরিবর্তন হচ্ছে, এটা সবাই জানে। দেশ তারা (জামায়াত) দখল করে ফেলছে। এটা আমার দল বিএনপি যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই ভালো।”
সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে তার (লতিফ সিদ্দিকী) অবদান অপরিসীম। তার বয়স এখন ৮৭ বছর, সেই লতিফ সিদ্দিকীকে আটক করা হলো, অপমান করা হলো বা মিটিং ভেঙে দেওয়া হলো। যারা ভেঙে দিয়েছে আমি তাদেরকে বলব তারা এই দেশের সবচেয়ে অকাল মানে অপরিণামদর্শী।” তিনি বলেন, এই ঘটনার পেছনে একটি কালো শক্তি রয়েছে যারা দেশকে দখল করে ফেলছে। বিএনপির যত দ্রুত এটি বোঝা সম্ভব হবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল হবে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার আহ্বান জানান। ফজলুর রহমান বলেন, “দেশটা বকলমে পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। এটা বাংলাদেশ না। এই দেশটা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে এখন বন্দি।”
বিএনপি থেকে সাময়িক পদ স্থগিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি তো এখনো বিএনপি। তিন মাস পরে তারা তো আমাকে নিতেও পারে আর আমি তো যাইতে পারি। কাজেই এইটা বিএনপি, আমি আছি বিএনপিতে।” তিনি মনে করেন, লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিএনপির চরম নিন্দা প্রকাশ করা এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত, অন্যথায় এই পরিস্থিতি একদিন বিএনপির ওপরও আসতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন