Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: 5শে পৌষ ১৪৩২ | ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে ঘিরে হত্যার হুমকির অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক স্ক্রিনশট এই ঘটনাকে আরও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এসব স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায়, হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে ইসরাত রায়হান অমি এবং তার অনুসারী রুপক নন্দী সরাসরি হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তায় ‘উত্তর অঞ্চলে চলাচল হারাম হয়ে যাবে’ কিংবা ‘ডাইরেক গিলে খেয়ে ফেলবে’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হওয়ায় বিষয়টি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রুপক নন্দীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও আক্রমণাত্মক ভাষা দেখা যায়। সেখানে তিনি হান্নান মাসউদকে ‘আগুন নিয়ে খেলা না করার’ হুঁশিয়ারি দেন এবং ভোটে অংশগ্রহণ করাকে হুমকির ভাষায় তুলে ধরেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ভয়ংকর বার্তা বহন করে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দাবি করছেন, সম্প্রতি চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এক চা-দোকানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, ভোটের আগে অনেক জনপ্রিয় প্রার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই বক্তব্যের পর থেকেই হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি শুরু হয়।
এনসিপি নেতারা বিষয়টিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক intimidation বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন ঠেকাতেই এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিজ প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, এই হুমকি শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
হাতিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে নির্বাচন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।