খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যৌন কেলেঙ্কারি ও নারী পাচারের দায়ে অভিযুক্ত প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিন সংশ্লিষ্ট নতুন নথিপত্র প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার ই-মেইল এবং চিঠিপত্রে উঠে এসেছে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, শিল্পপতি, আধ্যাত্মিক গুরু ও অধিকারকর্মীদের নাম। তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা বিল গেটসের মতো ব্যক্তিদের পাশাপাশি এবার নাম জড়িয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামা এবং ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের।
প্রকাশিত নথিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নাম অন্তত ১ হাজার ৫ বার এসেছে। যদিও এর বড় একটি অংশ ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের ক্লিপিং, তবে কিছু ব্যক্তিগত ই-মেইলে এপস্টিনকে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা গেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, এপস্টিন একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করে বার্তা পাঠালেও তাঁদের মধ্যে বাস্তবে কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, তার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ই-মেইলগুলো খতিয়ে দেখছে।
বিশ্বখ্যাত ভাষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মী নোম চমস্কির সঙ্গে এপস্টিনের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করেছে। ২০১৯ সালে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে ‘নোংরা’ আখ্যা দিয়ে চমস্কির কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন এপস্টিন। এমনকি চমস্কি এপস্টিনের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ফিরতি ই-মেইলও পাঠিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার নাম নথিতে ১৬৯ বার আসলেও তাঁর দপ্তর থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
এপস্টিন নথিতে আলোচিত প্রধান ব্যক্তিদের ভূমিকা ও অবস্থান:
| ব্যক্তির নাম | পেশা/পদবি | নথিতে প্রাপ্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ |
| ভ্লাদিমির পুতিন | প্রেসিডেন্ট, রাশিয়া | নথিতে ১,০০৫ বার নাম এসেছে; এপস্টিন সাক্ষাতের তোড়জোড় করেছিলেন। |
| দালাই লামা | ধর্মীয় নেতা, তিব্বত | নাম ১৬৯ বার এসেছে; তবে তাঁর দপ্তর কোনো সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করেছে। |
| নোম চমস্কি | ভাষাবিদ ও অধিকারকর্মী | একাডেমিক প্রবন্ধ ও ব্যক্তিগত বিষয়ে এপস্টিনের সঙ্গে ই-মেইল বিনিময় করেছেন। |
| অনিল আম্বানি | শিল্পপতি, ভারত | ২০১৭-২০১৯ পর্যন্ত ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। |
| দীপক চোপড়া | আধ্যাত্মিক বক্তা | আইনি মামলার খোঁজ নেওয়া ও ব্যক্তিগত আবদার নিয়ে ই-মেইল বিনিময়। |
এপস্টিনের প্রভাব যে কেবল পশ্চিমা বিশ্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তার প্রমাণ মেলে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের অনিল আম্বানির নাম আসায়। নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বার্তায় ব্যবসা ও বিশ্ব পরিস্থিতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত রুচি ও নারীর বিষয়েও আলোচনা হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের একটি বার্তায় আম্বানিকে এপস্টিনের কাছে বিশেষ অনুরোধ করতে দেখা যায়, যা নিয়ে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জনপ্রিয় লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার দীপক চোপড়াও এই নথির বাইরে থাকতে পারেননি। ২০১৯ সালে এপস্টিন গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে ই-মেইল যোগাযোগ চালু ছিল। ২০১৬ সালের একটি বার্তায় দীপক চোপড়াকে এপস্টিনের বিরুদ্ধে চলমান একটি দেওয়ানি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে দেখা যায়। ২০১৭ সালে তাঁদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তায় অত্যন্ত আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত চাহিদার বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা দীপক চোপড়ার মতো একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।
জেফরি এপস্টিনের এই বিপুল নথিপত্র প্রমাণ করে যে, উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী মহলে তাঁর যোগাযোগ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের গভীর। যদিও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই নথিগুলো বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা ও অনৈতিকতার এক অন্ধকার সংযোগকে উন্মোচিত করে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই নথি থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।