খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুখ্যাত যৌ/ন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে ট্রাম্প সবসময় দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টিন প্রথম অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার আগে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এবার প্রকাশিত নতুন তথ্য এই সম্পর্ক ও ট্রাম্পের জ্ঞাত অবস্থার বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তোলেছে।
ফ্লোরিডার সাবেক পুলিশপ্রধান মাইকেল রাইটার জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্প তাকে ফোন করেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছেন, জেফরি এপস্টিনের ‘অসভ্য ও নৃশংস প্রকৃতি’ সম্পর্কে সবাই জানে। এই তথ্য উঠে এসেছে ২০১৯ সালে এফবিআই’র সাক্ষাৎকার নথি থেকে, যা সম্প্রতি বিচার বিভাগের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
রাইটারের দাবি, ফোনকলের সময় ট্রাম্প বলেছেন, “যাক বাবা, ভালো হয়েছে যে আপনারা তাঁকে থামাচ্ছেন। সবাই জানত, তিনি এত দিন ধরে এসব করছেন।” তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে এপস্টিনের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন, এপস্টিন ‘অত্যন্ত মন্দ প্রকৃতির’ একজন ব্যক্তি।
নিচের টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তথ্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| ফোন কলের সময় | জুলাই ২০০৬ |
| ফোন প্রেরক | ডোনাল্ড ট্রাম্প |
| ফোন প্রাপক | মাইকেল রাইটার, পাম বিচ পুলিশপ্রধান |
| বিষয় | এপস্টিনের আচরণ ও সতর্কতা |
| উল্লেখযোগ্য বক্তব্য | “এপস্টিন একজন ঘৃণ্য মানুষ। নজরদারি রাখা উচিত।” |
| গিলেন ম্যাক্সওয়েলের অবস্থা | ২০২১ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রলুব্ধ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত |
| ট্রাম্পের অবস্থান | এপস্টিনকে মার-এ-লাগো থেকে বের করে দেওয়া; অপরাধ সম্পর্কে জানত না |
পুলিশ কর্মকর্তা রাইটার জানিয়েছেন, তিনি একবার এপস্টিনের আশেপাশে থাকাকালীন কিশোরীরা উপস্থিত ছিল এবং ট্রাম্প সেখান থেকে দ্রুত চলে গিয়েছিলেন। এফবিআই নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প ছিলেন সেই কয়েকজনের মধ্যে যাঁরা তদন্তের শুরুতেই ফোন করেছিলেন।
২০০৬ সালে পাম বিচ পুলিশ এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছিল। এটি পরে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা ২০০৮ সালে বিতর্কিত আপসের মাধ্যমে এপস্টিনকে গুরুতর অভিযোগ থেকে রক্ষা করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, “এটি ২০০৬ সালে ঘটতে পারে বা না-ও পারে; আমরা নিশ্চিত নই। তবে প্রেসিডেন্ট সবসময় বলেছেন, এপস্টিনকে মার-এ-লাগো থেকে বের করা হয়েছিল, কারণ তিনি অসভ্য ছিলেন।”
এপস্টিনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি ক্ষমা দেন, তিনি সত্য ও পূর্ণাঙ্গভাবে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত।
এই নতুন ফোনকলের তথ্য প্রকাশে ট্রাম্প ও এপস্টিনের সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের জ্ঞাত অবস্থার ওপর নতুন সমালোচনা ও অনুসন্ধানের দরজা খুলে দিয়েছে।