যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তথ্য বিনিময়ের অভিযোগ সামনে আসার পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত নথি ও ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবেই ৭২ বছর বয়সী এক সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় মেট্রোপলিটন পুলিশ। যদিও পুলিশের বিবৃতিতে নাম উল্লেখ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি পিটার ম্যান্ডেলসন।
গত সেপ্টেম্বরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তখনই এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটিশ সরকার ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যকার যোগাযোগসংক্রান্ত দলিলপত্র তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে। এর পরপরই আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জানুয়ারির শেষদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ যে ই-মেইল আদান-প্রদানের নথি প্রকাশ করে, তা থেকে জানা যায়—ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যে নিয়মিত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারে মন্ত্রী থাকাকালে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সংবেদনশীল কিছু তথ্য ভাগাভাগি করেছিলেন। যদিও এসব তথ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে বিষয়টি সরকারি নৈতিকতা ও নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| সময়কাল/তারিখ |
উল্লেখযোগ্য ঘটনা |
| গত সেপ্টেম্বর |
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারণ |
| জানুয়ারির শেষ |
মার্কিন বিচার বিভাগের ই-মেইল প্রকাশ |
| চলতি মাসের শুরু |
যোগাযোগসংক্রান্ত নথি তদন্তে হস্তান্তর |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি |
গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ |
চলতি মাসেই ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্যপদও ছেড়ে দেন। অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নথি প্রকাশের পর তিনি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; বরং এটি যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক নিয়োগ, নিরাপত্তা যাচাই এবং উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
এপস্টেইন কাণ্ড বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ম্যান্ডেলসনের গ্রেফতার যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি এখন সবার নজরে।