খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
উষ্ণতম মাস এপ্রিলের শুরু থেকেই দেশে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে, যা জনজীবনে তীব্র ভোগান্তি তৈরি করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসজুড়ে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুটি থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং একটি থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপপ্রবাহের ধরন সাধারণত তাপমাত্রার মাত্রার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে নিচের শ্রেণিবিন্যাসটি উল্লেখযোগ্য—
| তাপপ্রবাহের ধরন | তাপমাত্রার সীমা |
|---|---|
| মৃদু তাপপ্রবাহ | ৩৬.০ – ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| মাঝারি তাপপ্রবাহ | ৩৮.০ – ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
| তীব্র তাপপ্রবাহ | ৪০.০ – ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
আজ শনিবার সকালের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেশের রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের মোট ১৮টি জেলা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও রাঙ্গামাটি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব অঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায়, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি মাঝারি তাপপ্রবাহের উচ্চ সীমার কাছাকাছি, যা তীব্র গরমের ইঙ্গিত দেয়।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এ বছর হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। গত বছর টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল, যা ছিল বিরল এবং অস্বস্তিকর একটি আবহাওয়া পরিস্থিতি। তবে এ বছর মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে একটানা তাপপ্রবাহ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদের মতে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা কমতে পারে। তিনি মনে করেন, এপ্রিল মাসে তাপপ্রবাহ স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এবারের পরিস্থিতি গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, এপ্রিল মাসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ঝড়ের কারণে তাপপ্রবাহ টানা স্থায়ী হবে না।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। প্রায় সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি এক থেকে তিন দিন বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলে মেঘের উচ্চতা বেশি থাকায় শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ে, তবে বৃষ্টি শুরু হলে এ প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসে।
মার্চ মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাসজুড়ে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি ছিল। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতও হয়েছে। বিশেষ করে ১৩ মার্চ সিলেটে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
চলতি মাসের শেষ দিকে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, তবে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এপ্রিল মাস হবে গরম, বৃষ্টি ও ঝড়ের মিশ্র এক পরিবর্তনশীল সময়, যেখানে তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত পাশাপাশি প্রভাব ফেলবে জনজীবনে।