খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে ২০২৫
কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। এবার পাকিস্তান ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ‘ফাতাহ’ নামের একটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যার সর্বোচ্চ রেঞ্জ ১২০ কিলোমিটার। সোমবার (৫ মে) দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর জিও নিউজের।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত সামরিক মহড়ার অংশ, যদিও এই পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
এর আগে, দেশটি ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার আরেকটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। এই ধরনের ধারাবাহিক পরীক্ষাকে প্রতিবেশী ভারতের প্রতি একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাশ্মীরের পেহেলগামে গত ২২ এপ্রিল সংঘটিত এক বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ভারতীয় পর্যটক। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করলেও ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঘটনার পর নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর দুই দেশের সেনাদের মধ্যে টানা সাতদিন ধরে গোলাগুলি চলছে, যা সীমিত পরিসরে সংঘর্ষের ইঙ্গিত বহন করছে।
এই পরিস্থিতিতে একের পর এক সামরিক মহড়া, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং কূটনৈতিক পাল্টাপাল্টি বার্তা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে দক্ষিণ এশিয়ার এই উত্তেজনা বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার সতর্ক করে বলছে—এই মুহূর্তে নতুন কোনো যুদ্ধ বিশ্বের পক্ষে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা ঠেকাতে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ জরুরি।
সূত্র: জিও নিউজ
খবরওয়ালা/আরডি