খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ঊর্ধ্বমুখী দরের লাগাম টানতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানি খরচ নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এলপি গ্যাসের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ সরকারের এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে ‘এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (LOAB) ভ্যাট কমানোর আবেদন জানিয়ে আসছিল। তাদের এই আবেদনের গুরুত্ব অনুধাবন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এনবিআর-এর কাছে বিশেষ সুপারিশ প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে জ্বালানি হিসেবে এলপিজি এখন এক অপরিহার্য পণ্য। এই খাতের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং খুচরা পর্যায়ে এর দাম সাধারণের নাগালে রাখতে সরকার সাময়িকভাবে ভ্যাট ও আগাম কর ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই নতুন সিদ্ধান্তটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগে এলপি গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর ছিল এবং আমদানি পর্যায়ে ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ের এই ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানির আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কেবল আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
নিচে ভ্যাট পরিবর্তনের ফলে ভোক্তাদের ওপর প্রভাবের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| খাতের নাম | পূর্ববর্তী ভ্যাট ও কর ব্যবস্থা | বর্তমান (সংশোধিত) ব্যবস্থা | পরিবর্তনের প্রভাব |
| স্থানীয় উৎপাদন পর্যায় | ৭.৫% ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল | ০% (সম্পূর্ণ প্রত্যাহার) | উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে |
| ব্যবসায়ী পর্যায় | ৭.৫% ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল | ০% (সম্পূর্ণ প্রত্যাহার) | বিপণন পর্যায়ে মূল্য কমবে |
| আমদানি আগাম কর | ২.০% আগাম কর ছিল | ০% (সম্পূর্ণ প্রত্যাহার) | আমদানিকারকদের নগদ প্রবাহ বাড়বে |
| আমদানি পর্যায় | – | ৭.৫% ভ্যাট আরোপ | কর আদায়ের স্তর পরিবর্তন |
| সামগ্রিক মূসকভার | উচ্চতর ছিল | ২০% হ্রাস পাবে | খুচরা মূল্য হ্রাস পাবে |
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদানি পর্যায়ে এককভাবে ভ্যাট আরোপ এবং পরবর্তী স্তরগুলোতে ভ্যাট প্রত্যাহার করার ফলে স্থানীয় উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে যে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর আর কোনো ভ্যাট কার্যকর রইল না। এই প্রশাসনিক সহজীকরণের ফলে ভোক্তা সাধারণের ওপর ভ্যাটের বোঝা আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ১২ কেজি বা তার বেশি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি শিল্পখাতে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র শিল্পেও উৎপাদন খরচ কমে আসবে। তবে এই কর সুবিধা সাধারণ ভোক্তারা যাতে সরাসরি ভোগ করতে পারেন, সেজন্য বাজারে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআর জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সীমিত রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সুবিধা বর্ধিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।