খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার জ্বালানি খাতের বীমা বাজারে প্রিমিয়াম এখনো নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে কম ক্ষতির ঘটনা, পর্যাপ্ত বীমা সক্ষমতা এবং বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
উইলিস টাওয়ারস ওয়াটসন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির অংশ উইলিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এশিয়ার তেল ও গ্যাস উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য বড় কোনো ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। এই স্থিতিশীলতা অঞ্চলটিকে বৈশ্বিক বীমা বাজারে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
বীমা কোম্পানিগুলো এখনো এশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে যেসব তেল ও গ্যাস অপারেটরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং দীর্ঘদিনের কম ক্ষতির ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক হারে বীমা পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ক্রেতারা তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিস্তৃত ঝুঁকি কভার করতে পারছেন।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এশিয়ার শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতেও অনুকূল বাজার পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত বীমা সক্ষমতা এবং কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই প্রবণতাকে সমর্থন করছে। যদিও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় প্রিমিয়াম হ্রাসের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও নরম অবস্থায় রয়েছে।
বৈশ্বিক পর্যায়ে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ঝুঁকির জন্য বীমা সক্ষমতা বর্তমানে দশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। নতুন বীমা কাঠামো এবং ব্রোকারভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে এই সক্ষমতা আরও বাড়ছে, ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিযোগিতা জোরদার হয়েছে।
২০২৫ সালে শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতে বৈশ্বিক মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় দশমিক আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল এবং এই ধারা ২০২৬ সালের শুরুতেও অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন বীমা অংশগ্রহণকারী ও লয়েডস অব লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানের সক্রিয়তার কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ালেও এখন পর্যন্ত সরাসরি বীমাকৃত ক্ষতির পরিমাণ সীমিত। ফলে বাজারে অতিরিক্ত মূলধন থেকে যাচ্ছে এবং প্রিমিয়াম বাড়ানোর মতো চাপ তৈরি হয়নি।
এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের কারণে পরোক্ষ চাপের মুখে রয়েছে, কারণ এই অঞ্চল জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর বিঘ্ন পরিস্থিতি এপ্রিল নাগাদ কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে সম্পূর্ণ সমাধান নাও আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ মার্কিন ডলার এবং পুরো বছরে প্রায় ৮০ মার্কিন ডলার থাকতে পারে।
| বিষয় | পরিস্থিতি | প্রভাব |
|---|---|---|
| এশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতে ক্ষতি | বড় ক্ষতির অনুপস্থিতি | প্রিমিয়াম নিম্নমুখী |
| বৈশ্বিক শোধনাগার ক্ষতি | প্রায় ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার | প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি |
| বীমা সক্ষমতা | ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি | অতিরিক্ত সরবরাহ |
| প্রিমিয়াম প্রবণতা | ধীরগতিতে হ্রাস | ক্রেতাদের সুবিধা অব্যাহত |
| মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি | সীমিত বীমাকৃত ক্ষতি | বাজারে চাপ কম |
| জ্বালানি নির্ভরতা (এশিয়া) | উচ্চ আমদানিনির্ভরতা | পরোক্ষ ঝুঁকি বিদ্যমান |
সার্বিকভাবে, কম ক্ষতির ইতিহাস, পর্যাপ্ত বীমা সক্ষমতা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এশিয়ার জ্বালানি বীমা বাজার বর্তমানে ক্রেতাদের অনুকূলে অবস্থান করছে, যদিও বৈশ্বিক ঝুঁকির পরিবর্তন ভবিষ্যতে এই ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।