খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এশিয়ার বাণিজ্যিক বিমার বাজারে পুনরায় নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় বিমা ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিমার হার ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি নিয়ে টানা সপ্তম প্রান্তিকের মতো এশিয়ায় বিমার সামগ্রিক প্রিমিয়াম রেট বা হার কমার ঘটনা ঘটল।
পুরো এশিয়ায় বিমার হার কমলেও জাপান এবং ভিয়েতনাম এই সাধারণ ধারার বাইরে রয়েছে। ভিয়েতনামের বাজারে বিমার হার ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ছিল ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে জাপানের বাজারে বিমার হার ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১ শতাংশ। এই দুটি দেশ বাদে এশিয়ার অন্যান্য বাজারগুলোতে বিমার দাম হয় কমেছে অথবা আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
পণ্য বা প্রপার্টি ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে এশীয় অঞ্চলে ৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে, যা গত কয়েক প্রান্তিক ধরেই অপরিবর্তিত রয়েছে। কজুয়াল্টি বিমার ক্ষেত্রে হারের পতন আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। যেখানে আগের প্রান্তিকে পতন ছিল ১ শতাংশ, বর্তমান প্রান্তিকে তা ২ শতাংশে পৌঁছেছে। জাপানে লায়াবিলিটি বা দায়বদ্ধতা বিমার মূল্য বাড়লেও অন্যান্য দেশে তা স্থিতিশীল ছিল।
| বিমার ধরণ | ২০২৬ প্রথম প্রান্তিকে পরিবর্তন | ২০২৫ চতুর্থ প্রান্তিকে পরিবর্তন |
| সামগ্রিক বাণিজ্যিক বিমা | ৫% হ্রাস | হ্রাস অব্যাহত |
| প্রপার্টি বা সম্পত্তি বিমা | ৫% হ্রাস | ৫% হ্রাস |
| কজুয়াল্টি বিমা | ২% হ্রাস | ১% হ্রাস |
| আর্থিক ও পেশাদার লাইন | ৭% হ্রাস | ১০% হ্রাস |
| সাইবার বিমা | ৬% হ্রাস | ১০% হ্রাস |
আর্থিক এবং পেশাদার লাইনগুলোতে বিমার হার ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগের প্রান্তিকে এই হ্রাসের মাত্রা ছিল ১০ শতাংশ। পরিচালক ও কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা এবং পেশাদার ক্ষতিপূরণ বিমার ক্ষেত্রে অধিকাংশ বাজারে দাম কমেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে একটি বড় কারণ হলো চীনা প্রতিষ্ঠানের আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব প্রক্রিয়ার স্থানান্তর। চীনের আইপিও কার্যক্রম আঞ্চলিক এক্সচেঞ্জগুলোতে সরে আসায় বড় প্রিমিয়ামের সুযোগ কমেছে এবং বিমাকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে।
সাইবার বিমার ক্ষেত্রে হারের পতন ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১০ শতাংশ। বাজারে নতুন বিমা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকরা এখন আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে বিমা সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানের জটিল ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করে বিমা কোম্পানিগুলো তাদের পলিসির পরিধি আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত ঝুঁকি, শারীরিক সাইবার হুমকি এবং জালিয়াতি মোকাবিলায় বিমার শর্তাবলীতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হয়েছে।
বিমার হার হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও বাজারে এর সামগ্রিক চাহিদা বেশ দৃঢ় রয়েছে। সাইবার অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি সাইবার বিমা গ্রহণ করছে। অনেক গ্রাহক প্রিমিয়াম কমার ফলে বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে অতিরিক্ত কাভারেজ বা বিমা সুবিধা ক্রয় করছেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমাকারীদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা এশীয় বাজারের এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।