খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এশিয়া-প্যাসিফিক (APAC) অঞ্চলের বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে তাদের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জটিল সম্পদ (Complex Assets) ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মাত্র ২৩ শতাংশ বিমা নির্বাহী তাদের বর্তমান সিস্টেম বা টুলের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিয়ারওয়াটার অ্যানালিটিক্স’-এর এক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ওই অঞ্চলের বিমা খাতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ১৫০ জন উচ্চপদস্থ বিমা নির্বাহী, যারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করেন, তাদের মতে ‘ডেটা ইন্টিগ্রেশন’ বা তথ্যের সমন্বয় বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৪৯ জনই জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন বহিঃস্থ ম্যানেজারদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে ডেটা পাওয়ার ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সময়মতো বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মাত্র ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের বর্তমান সিস্টেমকে ডেটা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ‘চমৎকার’ বলে মনে করেন।
বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন আসার ফলে কাঠামোগত পণ্য (Structured Products) এবং এক্সোটিক অ্যাসেটের মতো জটিল ইনস্ট্রুমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এই জটিলতা সামলানোর ক্ষেত্রে সিস্টেমের সক্ষমতা নিয়ে আস্থার হার সবচেয়ে কম (২৩ শতাংশ)। এছাড়া বিভিন্ন পোর্টফোলিও এবং ট্রেডিং ডেস্কের ঝুঁকিগুলো একত্রিত করে দেখার ক্ষেত্রেও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে রয়েছে।
নিচে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিমা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের নাম | পরিসংখ্যান ও প্রভাব |
| জটিল অ্যাসেট টুলে আস্থা | মাত্র ২৩% (সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স) |
| ডেটা ইন্টিগ্রেশনে সন্তুষ্টি | ৪২% নির্বাহী সিস্টেমকে ‘চমৎকার’ মনে করেন |
| বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা | ৮৮% প্রতিষ্ঠান আগামী ৩ বছরে বৈচিত্র্য আনবে |
| প্রাইভেট মার্কেট অ্যালোকেশন | বর্তমানে ২০%, যা ৫ বছরে ৩৩% করার লক্ষ্য |
| বহিঃস্থ ম্যানেজার ব্যবহারের প্রবণতা | ৬৬% প্রতিষ্ঠান থার্ড-পার্টি ম্যানেজার বাড়াচ্ছে |
| ঝুঁকির প্রোফাইল বৃদ্ধি | ৭২% ফার্ম উচ্চতর ঝুঁকি লক্ষ্য করছে |
বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জরিপ অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ নির্বাহী মনে করেন যে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক অ্যাসেট ম্যানেজারের সাথে কাজ করছেন, যা তথ্যের বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কোম্পানিগুলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, নতুন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ফাংশন আউটসোর্সিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
ক্লিয়ারওয়াটার অ্যানালিটিক্স-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট শেন আকেরয়েড বলেন, প্রাইভেট মার্কেটে বিনিয়োগের বিস্তার এবং বহিঃস্থ ম্যানেজারদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা অপারেশনাল এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেহেতু ৯৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (M&A) বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, তাই যারা আগেভাগে ডেটা ও সিস্টেমের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে, তারা বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, এশিয়া-প্যাসিফিকের বিমা খাতের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে হলে কেবল বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং ডেটা সমন্বয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।