কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক কিশোরের লাশের মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কবর খুঁড়ে লাশের মাথা কেটে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামে। রোববার বিকেলে কয়েকজন স্থানীয় যুবক পাশের একটি তালগাছ থেকে তাল সংগ্রহ করতে গিয়ে কবরস্থানের পাশে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখতে পান। তারা লক্ষ্য করেন, একটি কবরের উপর কাফনবিহীন গলিত দেহ পড়ে আছে এবং মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা মরদেহটি ১৩ বছর বয়সী কিশোর মারুফের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে তার পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে বিষয়টি লালমাই থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতির পর পরিবারের সম্মতিতে বিচ্ছিন্ন দেহটি পুনরায় দাফন করা হয়।
পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ মাস আগে মারুফ বিষপানে আত্মহত্যা করলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর কবর খুঁড়ে লাশের মাথা কেটে নেওয়ার ঘটনা তাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করছেন, অন্ধবিশ্বাস বা তান্ত্রিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে লাশের মাথা এবং কাফন কাপড় নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেকেই ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে কবর খুঁড়ে লাশের অংশ নিয়ে গেছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও কবরস্থান রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
বিবরণ |
| এলাকা |
নাওড়া গ্রাম, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন, লালমাই |
| মৃতের পরিচয় |
মারুফ, বয়স ১৩ বছর |
| দাফনের সময় |
প্রায় ৫ মাস আগে |
| ঘটনা |
কবর খুঁড়ে লাশের মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় |
| আবিষ্কারের সময় |
রোববার বিকেল |
| শনাক্তকারী |
স্থানীয় যুবক ও পরিবার |
| পুলিশি ব্যবস্থা |
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু |
| বর্তমান অবস্থা |
মরদেহ পুনরায় দাফন, তদন্ত চলমান |
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কবরস্থানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে এবং বিষয়টি এলাকায় এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।