খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভাটারপাড়া গ্রামের রজনী মাহাতো মঙ্গলবার জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সঞ্জিত কুমার তাঁকে পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিলেও ওষুধের জন্য বাজার থেকে কিনতে বলেন।
রজনী মাহাতোর আক্ষেপ, ‘আগে জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ মিলত। এখন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।’
এই চিত্র শুধু ভাটারপাড়া নয়; তাড়াশ উপজেলার প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই অবস্থা। গত সাড়ে তিন মাস ধরে এসব ক্লিনিকে কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে রোগীরা সেবা নিতে এসে শুধু পরামর্শ নিয়েই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে হতাশ হচ্ছে প্রান্তিক অঞ্চলের অসহায় মানুষ।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হলেও বর্তমানে ৩০টি চালু আছে। আগে এসব ক্লিনিক থেকে ২২ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হতো। কিন্তু ১৬ জুন সর্বশেষ এক কার্টন ওষুধ সরবরাহের পর আর কোনো চালান আসেনি। একেকটি ক্লিনিকে তিন মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী এ সুবিধা পেতেন।
শোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ফিরোজ জামান জানান, ‘আগে তিন মাস পরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ আসত। জুনের চালান শেষ হওয়ার পর আর কিছু আসেনি। ফলে রোগীরা আসলেও দিতে পারছি না। অনেকে রাগারাগি করেন, গালমন্দ করেন। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
ওষুধ সংকটের কারণে অনেক রোগী এখন ক্লিনিক বিমুখ হয়ে পড়েছেন। বদলীপাড়ার শাহানাজ পারভীনের অভিযোগ, ‘ক্লিনিক সকাল ১০টার পর খোলে, আবার জোহরের আজান পড়লেই বন্ধ হয়ে যায়।’
তাড়াশ পৌর এলাকার কাউরাইল কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, শেফালী খাতুন, মনিরা পারভীন, টুটুল হোসেনসহ ৮–১০ জন রোগী ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। একই চিত্র সোলাপাড়া ক্লিনিকেও।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. এরফান আহম্মেদ বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরের ওষুধ কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ সম্ভব হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড