রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস ফিলিং স্টেশন মালিকরা তাদের কমিশন বর্তমান ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৯৬ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস ফিলিং স্টেশন ও রূপান্তর কর্মশালা মালিক সমিতির নেতারা এই দাবি উত্থাপন করেন।
সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রধান উপাদান হলো বিদ্যুৎ। ২০১৩ সালের পর থেকে স্টেশন মালিকদের কমিশন আর বৃদ্ধি করা হয়নি। তাদের দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সাত দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ কমিশনের হার অপরিবর্তিত থাকায় খাতটি ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে ব্যয় আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ইজারা ফি, লাইসেন্স নবায়ন ফি, সাধারণ মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কারণে দেশের অধিকাংশ স্টেশন পরিচালনায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান কমিশন কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা কমিশন পুনর্নির্ধারণ করে ১৩ দশমিক ৯৬ টাকা করার দাবি জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করা হবে।
কমিশন ও ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র
বিষয়
বর্তমান অবস্থা
বর্তমান কমিশন
৮ টাকা
প্রস্তাবিত কমিশন
১৩ দশমিক ৯৬ টাকা
সর্বশেষ কমিশন পরিবর্তন
২০১৩ সালের পর হয়নি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি
২০১৫ সাল থেকে সাত দফা
অতিরিক্ত চাপের কারণ
ইজারা ফি, লাইসেন্স নবায়ন ফি, মূল্যস্ফীতি, ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধি
দাবি বাস্তবায়নের সময়সীমা
৩০ জুন
সম্ভাব্য কর্মসূচি শুরুর তারিখ
১ জুলাই
সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় পরিচালন ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি স্টেশন পরিচালনায় পড়ছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক ও আমদানি ব্যয় যোগ হওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত কমিশন পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করার জন্য, যাতে দেশের সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হতে পারে।