খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর পুঠিয়ায় কম্বল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনা ঘটে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া হাটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তখন বৃদ্ধি পায় যখন শীতার্ত দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ দাখিল করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহতদের তালিকা নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | মন্তব্য |
|---|---|---|
| আনসার আলী | ৫৫ | জিউপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য |
| সৌমিক হোসেন | ২৫ | বিএনপি কর্মী |
| দেলোয়ার হোসেন | ২৬ | বিএনপি কর্মী |
| সাব্বির হোসেন | ১৫ | ছাত্র/যুবক |
| শামীমা খাতুন | ৪৫ | আনসার আলীর স্ত্রী |
| বাবু | ২৪ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| আনোয়ার | ২৬ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| আকরাম হোসেন | ২৯ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| আব্দুল হান্নান | ৩৪ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| বেলাল হোসেন | ৩৬ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| এমরান আলী | ৪৫ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| শামীম হোসেন | ২৭ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| রনি ইসলাম | ৪৭ | স্থানীয় বাসিন্দা |
আহত আনসার আলী অভিযোগ করেন, জিউপাড়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আরজ আলী তার অনুসারীদের নিয়ে কম্বল বিতরণের সময় তাদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ত্রাণ শাখা থেকে ধোপাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগমের কাছে ১৮টি কম্বল হস্তান্তর করা হয়। প্রধান শিক্ষক তালিকা প্রস্তুত করে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ স্কুলে উপস্থিত থাকতে বলেন। কিন্তু এর আগেই ওয়ার্ড সভাপতি আরজ আলী লোকজন নিয়ে স্কুলে এসে সব কম্বল নিয়ে যান। পরে আনসার আলী ও তার অনুসারীরা কম্বল বিতরণের জন্য গেলে সংঘর্ষ বাধে।
প্রধান শিক্ষক ফারুক নাজ বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অনুপস্থিত। আমি দায়িত্বে থাকায় সরকারি বরাদ্দকৃত কম্বল দেওয়ার চেষ্টা করেছি, তবে কম্বল বিতরণ আরজ আলী করেছেন।”
আরজ আলী বলেন, “আমি ওয়ার্ডের দরিদ্র মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছি। কোনো অন্যায় করি নি। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন।”
পুঠিয়া থানার ওসি বলেন, “অভিযোগ না আসায় এখন পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রক্রিয়া শুরু হবে।”