খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং সদস্যদের হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম নিহত হওয়ায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ মঙ্গলবার তিনজন আসামিকে ঢাকায় গ্রেফতার করেছে।
র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, শুক্রবার গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ:
| ক্র. নং | আসামির নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রামের নাম |
|---|---|---|---|---|
| ৬ | শাকিল বেপারী | ২৩ | মোস্তফা বেপারী | চরবংশী, উত্তর চরবংশী |
| ৭ | সোহাগ বেপারী | ১৯ | মোস্তফা বেপারী | চরবংশী, উত্তর চরবংশী |
| ৮ | মোক্তার পাটওয়ারী | ২০ | মোস্তফা পাটওয়ারী | চরবংশী, উত্তর চরবংশী |
নিহত আশরাফুল ইসলামও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। তিনি রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
র্যাব জানায়, ১৪ জানুয়ারি রাতের দিকে স্থানীয় মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং নেতা নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীর নেতৃত্বে আশরাফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আশরাফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং পরে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি দুপুরে আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক রায়পুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কিছুদিন আগে শাহিনসহ তিনজনকে মাদকসহ গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছিল। শাহিন মনে করেন আশরাফুল তথ্য দিয়ে তাদের ধরিয়েছেন। ১৪ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হয়ে শাহিন তার সহযোগীদের নিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়।
র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত কার্যকর করা হবে।