খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজায় চলমান অবরোধ ও মানবিক সংকটের প্রতিবাদ জানাতে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করেন এক হজযাত্রী। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। কাবা প্রাঙ্গণে এমন কর্মসূচি থেকে এক হজযাত্রীকে আটক করার ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৭ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবে হজ পালনরত ওই মিশরীয় হজযাত্রী কাবা চত্বরে আবেগঘন কণ্ঠে চিৎকার করে বলেন, ‘ওয়া ইসলামাহ!’—যা মুসলিম ঐতিহ্যে বিপদের সময় আবেগ ও বেদনা প্রকাশের প্রতীক। এরপর তিনি বলেন, ‘গাজার শিশুরা মরছে, হে মুসলমানরা!’ এরপরই সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, হজ ও ওমরার সময় কাবা ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে কোনো রাজনৈতিক বার্তা, প্রতীক, পতাকা বা স্লোগান প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের ভাষ্য, এসব ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা, নিরপেক্ষতা ও ভাবগম্ভীরতা রক্ষার স্বার্থেই এমন কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে মানবিক বার্তা ও সহানুভূতির প্রকাশের জন্যও গ্রেপ্তার—এটি বিশ্বজুড়ে নানা মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফিলিস্তিন সংকটে মুসলিম বিশ্ব যখন সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়ায় একতাবদ্ধ, তখন সৌদি সরকারের এমন দমনমূলক পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের নীতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এর আগে ২০২৩ সালেও এক ব্রিটিশ হজযাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল সৌদি পুলিশ। ওই ব্যক্তি ফিলিস্তিনি পতাকার রঙের তসবিহ ও ঐতিহ্যবাহী সাদা কেফিয়েহ পরে হজ পালন করেছিলেন। একইসঙ্গে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশ করায় সৌদি নাগরিকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
বিষয়গুলো ঘিরে সৌদি আরবের ভেতরে ও বাইরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন