খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
যশোরের কেশবপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউর রহমান উজ্জ্বল (৩৭) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর নির্যাতনের কারণেই ওয়ালিউর রহমান উজ্জ্বলের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক হাসিবুর রহমান জানান, শুক্রবার রাতে কারারক্ষীরা তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যৌথবাহিনী ওয়ালিউর রহমান উজ্জ্বলসহ চারজনকে আটক করে। পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ তিনটি মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নিহতের বড় ভাই ও কেশবপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন বাবু অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুস্থ অবস্থায় তার ভাইকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র বা মাদক পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরে তারা জানতে পারেন, তার কাছে ২০টি ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, তার ভাইকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মারধর করা হয় এবং ফজরের আজান পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়। কোনো চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে উজ্জ্বলসহ চারজনকে অস্ত্র–মাদক মামলায় কারাগারে রিসিভ করা হয়। উজ্জ্বলের একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট ছিল, যাতে উল্লেখ ছিল যে তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রিসিভ করার সময় তিনি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে তিনি ‘ইন্টারনাল হ্যামারেজে’ ভুগছিলেন। তাকে কারাগারের হাসপাতাল ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। আধ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, তাদের কাছ থেকেই জানা যায় যে উজ্জ্বলকে বাইরে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল। তিনি ‘পাবলিক অ্যাসাল্ট’ ছিলেন।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ চারজনকে আটক করেন। পরদিন সকালে ক্যাম্পে পুলিশকে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আটক ব্যক্তিরা কান্নাকাটি করছেন। সকালে ১০টার দিকে তাদের পুলিশি জিম্মায় নেওয়া হয়। পরে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ডাক্তাররা কাউকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেননি। তাদের শরীরে কোনো কাটা-ছেঁড়ার চিহ্নও পাওয়া যায়নি। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
খবরওয়ালা /এসএস