খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: কিচেন কেবিনেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (৫ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে কিচেন কেবিনেট রয়েছে। তারা সরকার প্রধানের কান ভারী করেন এবং উন্নয়নমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেন না।’
‘নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’ এর সারাদেশে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সমাজে আলো ছড়ায়, মানুষকে আলোকিত করে, তাদেরকে ধরনায় বসতে হচ্ছে সচিবালয়ে, অথচ যারা বাজারে সিন্ডিকেট করছে, তারা গ্রেপ্তার হন না। এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। পেটের ক্ষুধা থেকে নন এমপিও ভুক্ত শিক্ষকরা যে দাবি তুলেছেন, তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না সরকার।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার তো আবু সাঈদে রক্তের সরকার, মুগ্ধের রক্তের সরকার। যারা সমাজে আলো ছড়ায়, তারা খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় অবস্থান করছে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে দাবি দাওয়া পূরণে কোনো আশ্বাস নেই। এর মানে, সরকারে কিছু গণবিরোধী উপদেষ্টা আছেন।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, সরকারের মধ্যে কিচেন কেবিনেট (সরকারের খুব ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি) রয়েছে। তাদের কারণে ড. ইউনুস সাহেব একাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তিনি তো প্রধান উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী সমমর্যাদা। তিনি তো উন্নয়নে কিছু সিদ্ধান্ত একাই নিতে পারেন, কিন্তু কিছু উপদেষ্টা সেটি হতে দিচ্ছেন না।’
তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ২৭ বছর ধরে ছাত্র তৈরি করেছেন, যারা সমাজের অনেক দায়িত্ব পালন করছেন। এরা কি দেশের নাগরিক নন? তাহলে তাদের থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সরকার? এর প্রতি প্রশ্ন তোলেন তিনি।’
সেই সাথে রিজভী বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তো শিক্ষক বান্ধব, তিনি শিক্ষকদের নিয়েই আন্দোলন করেছেন। তবে তার উপদেষ্টা পরিষদে কিছু গণবিরোধী উপদেষ্টা আছেন। তারা এসব হতে দিতে চাইছেন না।’
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘শিক্ষকদের অনাহারে রেখে, তাদের সন্তানদের অনাহারে রেখে, আপনি কি আনন্দ পাবেন? তাদের দিকে প্রধান উপদেষ্টা দৃষ্টি দিচ্ছেন না কেন?’
রিজভী বলেন, ‘ড. আমিনুল ইসলাম একজন মেধাবী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তার নাম শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। আবার বিকেলে গণমাধ্যমে দেখলাম, তার জায়গায় আরেকজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ড. আমিনুল ইসলামের মতো একজন বিশিষ্ট সুনামধন্য ও খ্যাতিমান শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ কেন?’
খবরওয়ালা/জেআর