খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) সামনের সড়কে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সোহাগের স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোনসহ স্বজনরা এই দাবি জানান।
মানববন্ধনে মামলার বাদী ও নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম, ভাগনি বীথি আক্তার, স্ত্রী লাকী আক্তার ও ১০ বছর বয়সী ছেলে সোহানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের শিশু সন্তান সোহান বলেন, “আমি শান্তির বাংলাদেশ চাই। যদি আমার বাবার সঠিক বিচার হয়, তাহলে গর্ব করে বলতে পারব যে আমার বাবার হত্যার বিচার হয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সে আরও বলে, “কিসের স্বাধীন দেশ? আমার বাবাকে প্রকাশ্যে হত্যা করার পর তারা মিছিল করেছে—‘ব্যবসায়ীদের ভয় নাই, চাঁদাবাজদের ঠাঁই নাই।’ এরা এত ক্ষমতা পেল কোথা থেকে? খুন করার পরও যদি তারা মিছিল করতে পারে, তাহলে দেশে আর কেউ নিরাপদ নয়। তাই আমি চাই, যেন খুনিরা শাস্তি পায়—তাতে অন্যরা ভয় পাবে।”
সোহাগের স্ত্রী লাকী আক্তার অভিযোগ করেন, এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি সারোয়ার হোসেন টিটু এখনো ধরা পড়েনি। তিনি বলেন, “এই মানুষটি অত্যন্ত ভয়ংকর। তাকে গ্রেপ্তার না করায় আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাইরে যাওয়া বা স্কুলে পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, পরিবার থেকে মামলার এজাহারে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তদন্ত পর্যায়ে আনোয়ারুল হক রনি ওরফে ভাইয়া রনি, কাইয়ুম মোল্লা, রাকেশ এবং মোজাফফর হোসেন বাবলুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
লাকী আক্তারের অভিযোগ, “এই চারজন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় সরাসরি জড়িত। বাবলুর অফিসেই মূল পরিকল্পনা করা হয়। অথচ থানা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এই চারজনের নাম নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।”
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু হত্যাকারীদের বিচার নয়, যারা পরিকল্পনায় যুক্ত, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি—তাহলেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সকলে সোহাগ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
খবরওয়ালা/শরিফ