খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি সংঘটিত এক গোপন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র ব্যবহার করেছে—এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বর্ণনায় উঠে এসেছে, অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তবে এই অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেনি ওয়াশিংটন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযান শুরুর মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আকস্মিক বিপর্যয় দেখা দেয়। রাডার ও নজরদারি ব্যবস্থা হঠাৎ বিকল হয়ে যায় এবং আকাশে একাধিক ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এর পরপরই হেলিকপ্টার থেকে মাত্র ২০ জন মার্কিন সেনা নামেন এবং একটি অজ্ঞাত প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেন। এই অস্ত্র থেকে নির্গত শক্তিশালী শব্দ ও শক্তি তরঙ্গ প্রচলিত আগ্নেয়াস্ত্রের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বহুগুণ শক্তিশালী বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সদস্যদের ওপর এর প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ। অনেকের নাক দিয়ে রক্ত পড়া, তীব্র বমিভাব, মাথা ফেটে যাওয়ার মতো অনুভূতি এবং হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আক্রান্তরা শারীরিকভাবে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা তাদের ছিল না। এই কারণেই অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিবরণ শেয়ার করলে বিষয়টি দ্রুত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে। যদিও হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো সরাসরি ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযানে প্রায় ১০০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই লেজার ও মাইক্রোওয়েভভিত্তিক শক্তি অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। তবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি এমন অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা হলে এটি হবে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত।
নিচের টেবিলে অভিযানের প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | প্রভাব |
|---|---|---|
| অভিযানের তারিখ | ৩ জানুয়ারি ২০২৬ | কারাকাসকেন্দ্রিক অভিযান |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র | তীব্র শব্দ ও শক্তি তরঙ্গ |
| মোতায়েন সেনা | ২০ জন মার্কিন সেনা | হেলিকপ্টার থেকে নামানো |
| নিরাপত্তা সদস্যদের অবস্থা | মাথাব্যথা, বমি, অজ্ঞান | ব্যাপক অক্ষমতা |
| নিহতের সংখ্যা | প্রায় ১০০ জন | স্থানীয় সূত্রের দাবি |
| ড্রোন কার্যক্রম | একাধিক ড্রোন | রাডার ব্যবস্থা বিকল |
সামগ্রিকভাবে, এই অভিযান আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এটি নৈতিকতা, আন্তর্জাতিক আইন এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধের চরিত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র সত্যিই ব্যবহার হয়ে থাকলে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে ও সামরিক কৌশলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।