খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগ ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। যে মামলার ভিত্তিতে গত ১০ নভেম্বর তার ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, সেই ঘটনার পেছনের প্রকৃত চিত্র তিনি অবশেষে প্রকাশ করেছেন।
রোববার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান তারা। এরপর সোমবার সকালে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন জানান, মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চে, কিন্তু এ নিয়ে গত নয় মাস তিনি কোনও ধরনের তথ্যই পাননি। তার দাবি—অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম ইচ্ছাকৃতভাবে তার সঠিক ফোন নম্বর বা ঠিকানা পুলিশ বা আদালতকে দেননি, ফলে তাকে কোনো নোটিশ পাঠানোই সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে ২০১৬ সাল থেকে তারা ব্যবসায়ী অংশীদার ছিলেন। কিন্তু মেহজাবীনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এমন কোনো লেনদেন, চুক্তি বা কথোপকথনের প্রমাণ প্রদর্শন করতে পারেননি। নেই কোনো ব্যাংক লেনদেন, চেক, নগদ চুক্তিপত্র, বিকাশ ট্রান্স্যাকশন বা সাক্ষীর বিবৃতি—যা একটি মৌলিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রমাণের জন্য আবশ্যক।
অভিযোগের আরেকটি অংশ আরও নাটকীয়—অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি মেহজাবীন তাকে “চোখ বেঁধে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান”। অথচ গত নয় মাসে এই অভিযোগের সমর্থনে একটি সেকেন্ডও সিসিটিভি ফুটেজ বা কোনো সাক্ষীর উপস্থিতি দেখাতে পারেননি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি সত্যিই অভিযোগ থাকত, তবে পুলিশের কল, আদালতের নোটিশ বা আইনি কাগজপত্র অবশ্যই তার কাছে পৌঁছত। কিন্তু তিনি জানান, তিনি এমন কোনো নোটিশ পাননি। তিনি দাবি করেন, “একটি নোটিশ পেলেও আমি আগেই আইনি ব্যবস্থা নিতাম।”
যদিও তিনি মনে করেন মামলাটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, তবুও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর পাওয়ার পরই আইন মেনে আত্মসমর্পণ ও জামিন নেন। ফলে এখন মামলার তদন্তে বের হবে, অভিযোগ বাস্তবিকই আদৌ ছিল কি না, নাকি এটি কেবল ব্যক্তি বা পেশাগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা।