খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
ভারতে পথকুকুরের কামড় ক্রমেই জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। চলতি বছর এরই মধ্যে কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন ৩৭ লাখেরও বেশি মানুষ। এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরম। খবর এনডিটিভির।
তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা আসনের এই সংসদ সদস্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) লেখেন, “এখন আর এই সংকট অবহেলার পর্যায়ে নেই!”
লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় পশুপালনমন্ত্রী এস পি সিং বাঘেল জানান, ২০২৪ সালে ৩৭,১৭,৩৩৬টি কুকুর কামড়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে মানব-রেবিসে মৃত্যুর সন্দেহভাজন সংখ্যা ৫৪।
এই তথ্য ন্যাশনাল রেবিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের আওতায় সংগৃহীত, যা পরিচালনা করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (NCDC)।
মন্ত্রী আরও জানান, পশু স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে পথকুকুরদের রেবিস টিকা দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রেবিস: ভারতের জন্য এখনও বড় হুমকি
বিশ্বের মোট রেবিস-সংক্রান্ত মৃত্যুর প্রায় ৩৬ শতাংশই ঘটে ভারতে। প্রতি বছর দেশটিতে এই প্রাণঘাতী রোগে প্রাণ হারায় ১৮-২০ হাজার মানুষ, যাদের বড় অংশই শিশু।
যদিও রেবিস শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য, তবে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। কেন্দ্র সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে রেবিস নির্মূলের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
কর্ণাটকে ভয়াবহ চিত্র
সরকারি হিসেবে দেখা গেছে, শুধু কর্ণাটকেই চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কুকুর কামড়ের শিকার হয়েছেন ২.৩ লাখ মানুষ এবং ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে রেবিসে। পুরো ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে কামড়ের সংখ্যা ৩.৬ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪২ জনের।
বেঙ্গালুরুতে রেশন প্রকল্প
ব্রুহাত বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (BBMP) শহরের ৪ হাজার পথকুকুরকে খাওয়ানোর জন্য ২.৮৮ কোটি রুপির প্রকল্প নিয়েছে। তাদের মতে, খাবার দিয়ে সহজে কুকুরগুলোকে ধরতে পারলে বন্ধ্যাকরণ ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কেরালার কড়াকড়ি উদ্যোগ
কেরালায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। রাজ্যে এ পর্যন্ত পথকুকুরের কামড়ে ৪ শিশু মারা গেছে, যাদের টিকাও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এম বি রাজেশ জানান, ১৫২টি ব্লকে মোবাইল স্টেরিলাইজেশন ইউনিট চালু হচ্ছে এবং গুরুতর অসুস্থ কুকুরদের ইউথেনাইজ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৫৮ জন প্রশিক্ষিত কর্মী রাজ্যজুড়ে কুকুর ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি
রেবিস প্রতিরোধে কেরালার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩০ জুন থেকে সরকারি ও সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অন্যতম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
খবরওয়ালা/টিএসএন