খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক বিজিবি সদস্য নিজের রাইফেলের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে। নিহতের নাম মো. নাসিম উদ্দিন (২৩), সিপাহী নং- ১১৪৬০৪। তিনি ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের বাবুল মণ্ডলের পুত্র। নাসিম উদ্দিন লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অন্তর্গত ফুলবাড়ি গংগারহাট বিওপি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় দেড়টার দিকে নাসিম টহলের জন্য প্রস্তুতি নেন। তিনি ক্যাম্পের ইউনিফর্ম পরে নিজের রাইফেল হাতে নেন। এরপর ব্যারাকের পূর্ব পাশের ক্যাম্প বাউন্ডারির ভিতরে গিয়ে তিনি নিজের বুকে গুলি করেন। গুলির শব্দে সহকর্মীরা দৌড়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্যারাকের বারান্দায় আনা হয়। জরুরি ভিত্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফুলবাড়ী থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুড়িগ্রাম মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম নিশ্চিত করেন, ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, “ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। কোন পক্ষের অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান চলমান আছে।”
লালমনিরহাট বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তদন্ত চলছে। নিহত সদস্য মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।”
নিম্নে নিহত বিজিবি সদস্য সংক্রান্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যের ধরণ | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | মো. নাসিম উদ্দিন |
| বয়স | ২৩ বছর |
| সিপাহী নং | ১১৪৬০৪ |
| পিতা | বাবুল মণ্ডল |
| গ্রাম/জেলা | খাজুরা, সদর উপজেলা, ঝিনাইদহ |
| ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প | লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, গংগারহাট বিওপি |
| মৃত্যুর তারিখ ও সময় | ১ জানুয়ারি রাত প্রায় ১:৩০ মিনিট |
| মৃত্যু কারণ | আত্মঘাতী গুলি (প্রাথমিকভাবে) |
| অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা | ফুলবাড়ী থানার পুলিশ, লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম |
এই ঘটনায় সীমান্তে দায়িত্বরত সৈনিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৈনিকদের মানসিক সহায়তা ও পর্যাপ্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।