খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে কার্তিক ১৪৩১ | ৩১ই অক্টোবর ২০২৪ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের ইট – পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কলেজের প্রধান প্রবেশপথের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।আহত ব্যক্তির নাম আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ভড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মাথায় রক্তাক্ত জখম। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ,কলেজ ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাই সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি গোলাম মহম্মদকে সভাপতি করা হয়। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গোবড়া চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। মহম্মদকে সভাপতি করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা কৃষক দলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম।
তিনি বাঁশগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সভাপতি পদ নিয়ে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে গোলাম মহম্মদ কয়েকশত নেতাকর্মী নিয়ে বাঁশগ্রাম কলেজে ঢুকতে গেলে নুরুল হকের সমর্থকরা প্রথমে বাঁধা সৃষ্টি করে। এসময় তাঁদের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে যুবদলের নেতা আনোয়ার হোসেন মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে সহকর্মীরা উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। গতকাল দুপুরে সরেজমিন কলেজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কলেজ গেটে পুলিশ। দোকানপাট বন্ধ। কলেজের সামনে ও শালঘরমধুয়া বাজার সড়কের ইট পাটকেল পড়ে আছে। সেখানে নুরুল হকের সমর্থকরা জড়ো হয়ে আছেন।
একজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। তবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার বলেন, নতুন সভাপতি কয়েক শত লোকজন নিয়ে কলেজে ঢুকতে গেলে বিএনপির দু’পক্ষের ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। থমথমে পরিবেশ। ভাঙচুর ও লুটপাটের ভয়ে দোকান বন্ধ করে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা।বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. জাহিদুজ্জামান বলেন, গত ২৭ অক্টোবর গোলাম মহম্মদকে সভাপতি করে চিঠি দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ কারো জন্য সুপারিশ করেনি। তবুও সভাপতির প্রতিপক্ষরা নানান প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি করছে। আজ সভাপতি কলেজে ঢুকলে কলেজের বাইরের সড়কে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
আহত যুবদল নেতার ভাই আতিয়ার হোসেন বলেন, গোলাম মহম্মদ ও তার লোকজন আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমি সুঠিক বিচার চাই।জানতে চাইলে জেলা কৃষক দলের আহবায়ক নুরুল হক বলেন, অন্য ইউনিয়নের লোক দিয়ে কলেজের সভাপতি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আজ নেতাকর্মীরা, কিভাবে সভাপতি বানানো হলো ‘ তা জানতে কলেজে ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষরা হামলা করেছে। এতে আমার এক যুবদল নেতা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি গোলাম মহম্মদ বলেন, কলেজে ঢুকতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় কে কাকে মারেছে তা আমি জানিনা।বাঁশগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক ইকরামুল হক বলেন, কলেজের সভাপতির পদ নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় একজন আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।