খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার চান্দিনায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এ ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যার কারণে সাধারণ যাত্রী ও মালবাহী যানগুলো মারাত্মক দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। খবর পেয়ে চান্দিনা উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবির সমাধান করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ‘ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেড’-এর শ্রমিকরা উপজেলার হাড়িখোলা মাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক শ্রমিকের বকেয়া প্রায় ৩০–৪০ হাজার টাকার মধ্যে। ঈদুল ফিতরের সময়ের আগে আর্থিক চাপ ও দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ভাতা পেয়ে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামেন।
ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সিডিএম পরিবহনের চালক সামিউল জানান, “গত বছরও একই কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া পাওনার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। আজও একই কারণে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি রুহুল আমিন পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে মালিকরা দ্রুত বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ডেনিম প্রসেসিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, “শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতন বৃহস্পতিবারের মধ্যে পাবেন। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস ১৬ মার্চের মধ্যে প্রদান করা হবে। কিছু মহল ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের ব্যবহার করে মহাসড়ক অবরোধ করেছিল।”
| মাস | বকেয়া পরিমাণ (প্রতি শ্রমিক) | প্রদানের তারিখ |
|---|---|---|
| জানুয়ারি | ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা | ১২ মার্চ ২০২৬ (আশ্বাস) |
| ফেব্রুয়ারি | ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা | ১৬ মার্চ ২০২৬ (আশ্বাস) |
| ঈদুল ফিতর বোনাস | নির্ধারিত হারের অনুযায়ী | ১৬ মার্চ ২০২৬ (আশ্বাস) |
প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধে যানজট নিরসনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আরও স্থায়ী সমঝোতা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।