কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
কুষ্টিয়ায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে গত মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসলেও, এখন আবার পুরোদমে চলছে জেলার সব ইটভাটা। পরিবেশ ধ্বংস ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় এসব ভাটা চালু করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। যতবার অবৈধ ইটভাটা চালু হবে, ততবার আমরা সেগুলো ভেঙে দেব। ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ইটভাটা ভেঙে দেওয়া ও জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইটের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্লক নির্মাণে কেউ চাইলে, আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
এর আগে, মার্চ মাসে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন থানার আওতায় থাকা অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে একটি অভিযান চালানো হয়। পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অংশগ্রহণে চালানো এই অভিযানে কয়েকটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে ফেলা হয়, বাউন্ডারি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আগুন নেভাতে পানি ছিটানো হয়।
তবে এসব ভাটা কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থানে ফিরে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রশ্ন উঠছে, এত জনবল ও অর্থ ব্যয় করে পরিচালিত অভিযানের কার্যকারিতা কতটা? অভিযানে কি আদৌ ভাটা মালিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়, নাকি এটি কেবল লোক দেখানো একটি পদক্ষেপ?
অভিযানের পরেও পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয় কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। কিন্তু ছুটির পর আবার এগুলো চালু হয়েছে। আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি এবং খুব শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা ইটপ্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট রয়েছে। আমরা বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স দেই। তাহলে আমরা কীভাবে অবৈধ হই? যদি অবৈধ হই, তাহলে আমাদের কাছ থেকে ট্যাক্স নেয় কেন?’
প্রসঙ্গত, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী জানান, তিনি ঈদের আগে পদত্যাগ করেছেন।
অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও ভাটা মালিকরা নানা কৌশলে পুনরায় কাজ শুরু করে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং, স্থায়ী সমাধান এবং নীতিগত পরিকল্পনা। প্রশাসনের হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
খবরওয়ালা/আরডি