খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার জামাতের মনোনয়ন পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে ‘রমজানের পবিত্রতা রক্ষা’র অজুহাতে সাধারণ মানুষের ওপর নীতি পুলিশি বা ‘মোরাল পুলিশিং’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা দোকানিদের কঠোর ভাষায় শাসাচ্ছেন, যা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি এলাকায় সংসদ সদস্য আমির হামজা বেশ কিছু অনুসারী এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়ে টহল দিচ্ছেন। সেখানে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মসিউল আজমকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দোকানিদের ধমকাতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “রমজান মাস, কোনো ক্যারাম বোর্ড বা টিভি চলবে না। এককথায় শেষ।” এই সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রশাসনের অবস্থান ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে জেলা পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিধি বহির্ভূত আচরণের দায়ে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মসিউল আজমকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, তিনি ‘ওপরের নির্দেশে’ এমন কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
ঘটনার প্রধান পক্ষগুলোর বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| পক্ষ | মূল বক্তব্য ও অবস্থান |
| আমির হামজা (এমপি) | মোরাল পুলিশিং নয়, বরং ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে নামাজের সময় বিনোদন বন্ধ রাখতে বলেছেন। |
| মসিউল আজম (পুলিশ কর্মকর্তা) | ওপরের নির্দেশে দোকানিদের হুঁশিয়ার করেছেন বলে দাবি করেন। বর্তমানে ক্লোজড। |
| জসীম উদ্দিন (পুলিশ সুপার) | পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। সংসদ সদস্যের কথাটিই পুলিশ কর্মকর্তা পুনরুক্ত করেছেন। |
| স্থানীয় দোকানি ও জনতা | আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ। |
‘দ্বীনের প্রতি দায়’ বনাম নাগরিক অধিকার
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজা তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি কেবল মুসলমানদের নামাজের সময়টুকুতে দোকানে টিভি বা ক্যারাম খেলা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছেন। তার মতে, এটি কোনো আইনি জবরদস্তি নয় বরং ‘দ্বীনের প্রতি দায়’ থেকে করা একটি আহ্বান। তবে সমালোচকরা বলছেন, একজন আইন প্রণেতা যখন পুলিশ নিয়ে দোকানে গিয়ে ধমকের সুরে কথা বলেন, তখন সেটি আর ‘আহ্বান’ থাকে না, বরং তা ভীতিকর হুমকিতে রূপ নেয়। ওপর এক ভিডিও তে সে
” খবরওয়ালা ” নাম উল্লেখ করে উক্ত পোর্টাল ও পত্রিকা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ দের মেরে ফেলা উত্তম বলে মন্তব্য করে সচেতন জনগণের সমালোচনায় পড়েন। খবরওয়ালার ক্রটি তারা উক্ত সাংসদের উদ্ভট, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জনস্বার্থে পাঠকের কাছে তুলে ধরেছে মাত্র।
গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিগত পরিসরে কী করবেন, তা দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়। পবিত্র রমজান মাসে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করা ব্যক্তিগত ইবাদতের অংশ হলেও, রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে কাউকে জবরদস্তি করা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের প্রচার বা প্রসারে সরকারি বাহিনীকে ব্যবহারের এই প্রবণতাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
উপসংহার
কুষ্টিয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি স্থানীয় বিষয় নয়, বরং এটি জনপ্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার এই রূপ আচরণ বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এমন কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।