খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা-কে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে প্রস্তাবকারীদের নাম-পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ বা আইনের হাতে হস্তান্তর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশটি পাঠান কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, “দুপুরের পর লিগ্যাল নোটিশটি এমপি বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর নাম প্রকাশ বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা জানান, “শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য তিন দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে। তবে আমি তা গ্রহণ করিনি। কেউ জানবে না, আল্লাহ ছাড়া। যদি চাইতাম, ১০০ কোটি বা পুরো কুষ্টিয়াও লিখে দিতে পারত, তবু আমি অবস্থান পরিবর্তন করব না।”
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানায়। এক মাস পর ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান এই নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, “জনসম্মুখে আপনার বক্তব্যে বলা হয়েছে ঘুষ প্রস্তাব করা হয়েছিল কিন্তু গ্রহণ করা হয়নি। ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ই আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী। নাম প্রকাশ না করা মানে অপরাধীকে আশ্রয় প্রদান।”
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “ঘুষ প্রস্তাব পাওয়া মানেই এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। এমপি জনসম্মুখে তাদের নাম প্রকাশ করুন।”
ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান জানান, “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ চালু না থাকায় জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাপক | সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা |
| অভিযোগ | কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য ঘুষ প্রস্তাব প্রাপ্তির ঘটনা |
| প্রস্তাবিত ঘুষের পরিমাণ | ৫০ কোটি টাকা |
| নোটিশ প্রেরকের পক্ষ | কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদল, আইনজীবী আব্দুল মজিদ |
| নির্দেশ | ৭ দিনের মধ্যে ঘুষদাতাদের নাম প্রকাশ বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ |
| ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ | আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ |
| রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া | বিএনপি ও ছাত্রদল হুঁশিয়ারি, জনমতের চাপ বাড়ানো |
মুফতি আমির হামজার বক্তব্য ও ঘুষের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, আইন ও শর্ত অনুযায়ী ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করা না হলে আইন প্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম ও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং সম্ভাব্যভাবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর চাপ বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে, সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইন অনুযায়ী আগামী সাত দিনের মধ্যে নাম প্রকাশ বা আইনি প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।