খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা দেশের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জেলার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছু অভিযোগ পেয়েছেন, সেগুলো সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “মেডিকেল এবং সদর হাসপাতাল নিয়ে কিছু লিখিত অভিযোগ ছিল। এগুলো আমি সরাসরি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভুল স্বীকার করেছে এবং মাফও চেয়েছে। তবে বিষয়টি আগে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, মূল দোষ ওপরে ছিল। এখন কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা হবে, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “মেডিকেল কলেজে অনেক সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রাইভেট ক্লিনিকে রাত ১১টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। কিছু দালাল এবং স্পিরিট মানি বিষয়ক অভিযোগও এসেছে। যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম আছে, সরাসরি সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানান। আমরা দেখব, কুষ্টিয়ায় কে কতটা ক্ষমতা নিয়ে চলে।”
তিনি হাসপাতালের পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের আবেগের জায়গা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ। আমরা চাই সব বিভাগ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হোক। আজকের মিটিংয়ে আমরা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেছি। কয়েকটি বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অন্তত একটি সুখবর সবাই শুনতে পাবেন।”
এদিকে, আমির হামজার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে নানা সমালোচনা ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার ভোর ৫টায় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় দেশবাসী ও আমার সমর্থকবৃন্দ, আমাকে নিয়ে যে সমস্ত জায়গায় মিডিয়া ট্রায়াল হয় বা কটু কথা বলা হয়, সেসব জায়গায় গিয়ে খারাপের বিপরীতে খারাপ কথা বলবেন না। সুন্দরভাবে বোঝান বা এড়িয়ে চলুন। মুমিনের জবান থেকে অপর মুমিন হেফাজতে থাকবে। আমার বিরুদ্ধে যেসব কটু কথা বলা হয়, আল্লাহ যথেষ্ট। আমি এসব নিয়ে বিচলিত নই; সত্য মিথ্যার ওপর জিতবে।”
| বিভাগ/বিষয় | বর্তমান অবস্থা | পরিকল্পনা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সার্জারি | সীমিত | পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা | সম্প্রতি মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে |
| জরুরি বিভাগ | চালু | উন্নয়ন কার্যক্রম চলবে | দ্রুত সেবা বৃদ্ধি লক্ষ্য |
| ডাক্তার উপস্থিতি | অনিয়মিত | পুনর্বিন্যস্ত শিফট | প্রাইভেট ক্লিনিকের সাথে তুলনা সমস্যা |
| রোগী সেবা | কিছু সীমাবদ্ধ | উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ | রোগীর অভিযোগের প্রতিকার |
এভাবে হাসপাতালের উন্নয়ন ও চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে সংসদ সদস্য সরাসরি তদারকি করছেন এবং কুষ্টিয়ার জনগণের জন্য স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।