খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বরিশালে এক কৃষক, সোহেল খান (৩৫), ডাকাত অপবাদ দিয়ে পিটুনিতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে পুলিশ বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরকবাই এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সোহেল চরকবাই গ্রামের নুর ইসলাম খানের পুত্র। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এই সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সোহেলের স্ত্রী, সাজেদা বেগম, অভিযোগ করেছেন যে স্থানীয় কিছু লোক তার স্বামীকে জমি লিজ দিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার গভীর রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে সুচিন্তিতভাবে হত্যা করেছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শনিবার রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে সোহেলকে ‘ডাকাত’ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ধরে ফেলে গণপিটুনি দেওয়া হয়। রাতেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশকে অবগত করা হয়। তাদের দাবি, সোহেল খান গণপিটুনির শিকার।
সোহেলের স্ত্রী সাজেদা বেগমের ভাষ্য, কিছুদিন আগে স্থানীয় শাহিন হাওলাদার, তার ভাই ফিরোজ হাওলাদার সহ কয়েকজন তার স্বামীর কাছ থেকে তরমুজ চাষের জন্য জমি ভাড়া নিতে চেয়েছিল। জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার রাতে তারা ফোন করে ডেকে এনে তার স্বামীকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
সোহেলের কন্যা, ফাতেমা আক্তার, জানান, গত বছরও অভিযুক্তদের কাছে তার বাবা তরমুজ চাষের জন্য জমি বর্গা দিয়েছিলেন। সেই বছরের লাভের অর্থ না পাওয়ায় এই বছর তিনি জমি দিতে রাজি হননি। তিনি তার নির্দোষ পিতার হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার প্রত্যাশা করেন।
ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ডাকাত ধরার সংবাদ পাওয়া গেলেও আমরা সেখানে সোহেলের মরদেহ খুঁজে পাই। হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শাহিন হাওলাদার বা তার ভাই ফিরোজ হাওলাদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিষ্ক্রিয় পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই তারা আত্মগোপন করেছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন