খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, দেশের কৃষকদের জন্য একটি নতুন ফসল বীমা কার্যক্রম চালু করা হবে। এই বীমার লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকরা আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকবেন।
মন্ত্রী বলেন, বন্যা, খরা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে যদি কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, তবে সরকার বীমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এটি কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রী আজ কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলাধীন শ্যাম্পুর হাই স্কুলে আয়োজিত ধান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার নির্বাচনের পূর্বে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনেকেই সন্দেহ করেছিল এই প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর হবে কি না, তবে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান দায়িত্বে আসার পর থেকে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানসহ অন্যান্য প্রকল্প ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। কৃষিকে জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ এই সেক্টরে নিয়োজিত।
ফসল বীমার পাশাপাশি সরকার কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
| পদক্ষেপ | বিবরণ | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| উৎসাহমূলক অনুদান | বীজ, সার ও কৃষি উপকরণে সহায়তা | উৎপাদন বৃদ্ধি |
| কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা | সহজ শর্তে ঋণ প্রদান | আর্থিক স্থিতিশীলতা |
| বীমা সুবিধা | প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ | ঝুঁকি কমানো |
| সম্মানী প্রদর্শন | ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য | সামাজিক সমর্থন |
মন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন যে, দেশের খাদ্য মজুদ যথেষ্ট রয়েছে এবং আসন্ন মাসগুলিতে কোন নাগরিক খাদ্য সংকটে পড়বে না। তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানের শেষে আম্রাতলী ইউনিয়নের ১,৮৭৯ জন উপকারভোগী প্রত্যেকে ৩০ কেজি করে ধান পান ‘ফুড-ফ্রেন্ডলি’ কর্মসূচির আওতায়। এই ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এভাবে ফসল বীমা, বিদ্যমান সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে সরকার কৃষকদের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বাজার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।